Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেপাত্তা কৃষ্ণ, ১৫ দিন ধরে তালা ঝুলছে অনুগামী প্রধানের চেম্বারে, জলপাইগুড়িতে বিস্ফোরক তৃণমূলেরই উপপ্রধান

বিজেপি কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই গত ৫ মে গা ঢাকা দেন বিতর্কিত তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস।

বেপাত্তা কৃষ্ণ, ১৫ দিন ধরে তালা ঝুলছে অনুগামী প্রধানের চেম্বারে, জলপাইগুড়িতে বিস্ফোরক তৃণমূলেরই উপপ্রধান
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিজেপি কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই গত ৫ মে গা ঢাকা দেন বিতর্কিত তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস। তিনি বেপাত্তা হতেই জলপাইগুড়ির অরবিন্দ পঞ্চায়েতে নিজের চেম্বারে তালা মেরে অফিসে আসা বন্ধ করেন তৃণমূল প্রধান রাজেশ মণ্ডল। ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কৃষ্ণ-অনুগামী ওই প্রধানের চেম্বারে তালা ঝুলছে। প্রধান না আসায় পঞ্চায়েতের কাজকর্ম কার্যত লাটে উঠেছে। 

Advertisement

অরবিন্দ পঞ্চায়েত সূত্রে খবর,চেম্বারের তালা খোলার জন্য প্রধানকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান জানিয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা চাবি হারিয়ে গিয়েছে। কবে অফিসে আসবেন, সেটাও জানাতে চাননি। 
এই পরিস্থিতিতে প্রধানের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন দলেরই উপপ্রধান টিকা রাউতিয়া। তাঁর দাবি, কৃষ্ণ দাসের কথামতো পঞ্চায়েত চালাতেন প্রধান। বেআইনি কারবারে মদত দেওয়া সহ নানা ক্ষেত্রে ভূরিভূরি অভিযোগ থাকা কৃষ্ণর এতটাই অনুগামী প্রধান, নিজের চেম্বারে ওই নেতার ছবি রেখে দিয়েছেন। পঞ্চায়েতে বহু কাজ বকেয়া পড়ে থাকলেও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচে কর্পোরেট অফিসের কায়দায় নিজের চেম্বার বানিয়েছেন প্রধান। পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় নিয়ে বারবার জানতে চাওয়া সত্ত্বেও গত তিন বছর কোনো হিসাব দেননি। 
উপপ্রধানের দাবি, প্রধান নিজের বাহিনী নিয়ে অফিসে আসতেন। যতক্ষণ থাকতেন, ওই বাহিনী বসে থাকত। বাহিনীকে টপকে প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না সাধারণ মানুষ। অফিস বন্ধের পরও পঞ্চায়েতে বসে রাজনৈতিক মিটিং করতেন প্রধান। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করা হলেও প্রধান গুরুত্ব দেননি। হাবেভাবে বুঝিয়ে দিতেন, কৃষ্ণ দাসের হাত তাঁর মাথায় রয়েছে। সুতরাং তিনি যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই পঞ্চায়েত চলবে। 
যদিও অরবিন্দ পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রাজেশ মণ্ডলের পাল্টা তোপ, উপপ্রধান এখন হয়তো অন্য কোনো দলের কাছে নিজের নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। সেকারণে এসব বলছেন। আমার বক্তব্য, উপপ্রধান তো আমারই দলের। তাঁর যদি এসব বলারই ছিল, এতদিন দলীয় নেতৃত্বকে বলেননি কেন?
নিজের চেম্বারে তালা মেরে অফিস না যাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, নিজের বুথের মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য একটি অফিস ছিল আমার। বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পর হামলা চালিয়ে সেই অফিস ভেঙে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েতে প্রধানের ঘরের চাবি সেখানেই রাখা ছিল। ফলে চাবিটি এখন পাওয়া যাচ্ছে না। 
তিন বছর পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল নিয়ে কোনো হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানের দাবি, প্রতি বছর অডিট হয়। তাছাড়া অনলাইনে সবটাই পাওয়া যায়। কর্পোরেট অফিসের আদলে পঞ্চায়েতে নিজের চেম্বার বানানো নিয়ে প্রধানের বক্তব্য, প্রায় আড়াই বছর আগে পঞ্চায়েত ভবন তৈরি হয়েছে। এখন এসব কথা উঠছে কেন? আর চেম্বারে কৃষ্ণ দাসের ছবি রাখা নিয়ে প্রধানের মন্তব্য, আমার দিকে শুধু আঙুল তোলা হচ্ছে কেন, উপপ্রধানও তাঁর অনুগামী ছিলেন। কৃষ্ণ দাস দলীয় নেতৃত্ব, সেকারণেই তাঁর ছবি রেখেছিলাম। এখন যদি ওই ছবি নিয়ে আপত্তি ওঠে, তা সরিয়ে দেব। তাঁর কোনো বাহিনী নেই বলেও দাবি করেছেন প্রধান। • বন্ধ প্রধানের ঘর। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ