উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত গোবরডাঙা অঞ্চলটির প্রাকৃতিক পরিবেশ নয়নাভিরাম। এখানকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ—কঙ্কনা বাওড়। মেয়েদের হাতের কঙ্কনের মতো এই জলাশয়ের আকৃতি। তাই এমন নামকরণ। এর একদিকে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বসিরহাটের স্বরূপনগর। অন্যদিকে গোবরডাঙা। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কঙ্কনা বাওড়ের বেশিরভাগটাই গোবরডাঙার মধ্যে। কঙ্কনা বাওড়ের আয়তন প্রায় ২৩০ একর। বাওড়টি আগে যমুনা নদীর অংশ ছিল। পরবর্তীকালে যমুনা নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে। যমুনার বাঁকে জল জমে তৈরি এই জলাশয়টি আসলে একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্ব্রদ বিশেষ। বর্তমানে কঙ্কনা বাও়ড়কে যমুনা নদীর সঙ্গে যুক্ত করেছে রত্না খাল। এই খালের মাধ্যমে যমুনা নদীর জল ঢোকে কঙ্কনা বাওড়ে। বিচরণ ক্ষেত্র হিসেবে এই জলাশয়টি পরিযায়ী পাখিদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে পরিযায়ী পাখিদের দেখা মেলে। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা থেকে আসা বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি কঙ্কনা বাওড়ে ডেরা বাঁধে। বাওড়ের চারদিকে সবুজ গাছগাছালি। প্রকৃতি ও পরিযায়ী পাখিদের টানে দূরদূরান্ত থেকে পক্ষীপ্রেমীরা ভিড় করেন গোবরডাঙায়। কঙ্কনা বাওড়ের পাড়ে প্রায় শ’তিনেক মৎস্যজীবী পরিবারের বাস। এই বাওড়ে মাছ ধরেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। বাওড়ের খুব কাছেই অবস্থিত শিবমন্দির ও চণ্ডীমন্দির ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা লোককথা। ভক্তির প্রাবল্যে ভক্ত সমাগমও ভালোই হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বিশিষ্ট আইনজীবী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় কচুরিপানায় ভরে গিয়ে নাব্যতা কমে গেছে বাওড়ের। সঙ্কটে পড়ছে জলজ প্রাণীরা। বর্ষায় বৃষ্টির জলে বাওড় উপচে আশপাশের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এখানে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে উঠলে এলাকার অর্থনীতি যেমন চাঙা হবে, তেমনই দূষণের গ্রাস থেকে রক্ষাও করা যাবে আগামী প্রজন্মকে।’



