সে একটা সময় ছিল। যখন এই কলকাতায় কেউ কেউ বাড়িতেই বাঘ পুষতেন! কখনও উপহার হিসেবে পেয়ে বা কখনও নেহাৎই শখের বশে বাড়িতেই বানিয়ে নিতেন এক ‘মিনি চিড়িয়াখানা’। এরকমই এক চিড়িয়াখানা ছিল উত্তর কলকাতায়। গত শতাব্দীর চারের দশকে ৬, যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউতে তৈরি হয়েছিল আটতলা একটি বাড়ি। এটিই মহানগরের প্রথম বহুতল। আর সেই বাড়ি থেকেই এক সময় বাঘের ‘হালুম’ আর সিংহের গর্জন শুনে বুকে কাঁপন লাগত আম জনতার। বাড়িটি তৈরি করেছিলেন দেশের অন্যতম চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ কমলাকান্ত হাজারি। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, চারের দশকে এই বাড়িতে ছিল জোড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, দু’টি সিংহী ও একটি কুমির। ডাঃ হাজারির বাড়িতে থাকা বাঘের কথা লিখেছেন সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও। তাঁর ‘অর্ধেক জীবন’, ‘একা এবং কয়েকজন’ গ্রন্থে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সুনীল। ‘একা এবং কয়েকজন’ বইয়ে সুনীল লেখেন, ‘কে কে হাজারির বাড়িতে দেখেছি শিকল দিয়ে বাঁধা সত্যিকারের জ্যান্ত বাঘ।’ কীভাবে এ বাড়িতে সিংহী এল? শোনা যায়, কোনও এক রাজবাড়ি থেকে আনা হয়েছিল দু’টি সিংহী। রাখা হয়েছিল বাড়ির বেসমেন্টে। এক বছর পর সেই সিংহীগুলিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় রাজবাড়ির লোকজন। পরে সেই খাঁচায় দু’টি বাঘ রেখেছিলেন ডাঃ হাজারি। সেই থেকে এই বাড়ি স্থানীয়দের কাছে ‘বাঘ বাড়ি’ বলে পরিচিতি পায়। বাঘেদের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এক পরিচারিকাকে। কোনও এক বাঘের হামলার শিকার হন তিনি। এরপর একটি বাঘকে দেওয়া হয় চিড়িয়াখানায়। অন্যটি নিয়ে যান কোনও এক সাহেব। যশোর রোডে গাইঘাটার পরেই ‘বকচরা’ গ্রামে ছিল হাজারি পরিবারের বাড়ি। সেখানে নিয়মিত চিকিৎসা করতে যেতেন কমলাকান্ত। একবার তাঁকে একটি কুমির শাবক ‘উপহার’ দেন স্থানীয়রা। তাঁরা জানান, এটি ‘মেছো কুমির’। বাড়ির ছাদে চৌবাচ্চা বানিয়ে সেই কুমির শাবককে তার মধ্যে রেখেছিলেন তিনি। তবে কুমির অস্বাভাবিক বড় হয়ে যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় পুকুরে। এরপর তাঁর ভুল ভাঙে। বুঝতে পারেন, সেটি আদৌ ‘মেছো কুমির’ নয়। শেষে ওই কুমিরকে গুলি করে মারা হয়।



