Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোয় চা খাবে কলকাতা, প্রয়োজন দু’কোটি মাটির ভাঁড়

শহরের চায়ের দোকানগুলির জন্য মাটির ভাঁড় তৈরি হচ্ছে দু’কোটি। সংখ্যাটা অতিরঞ্জিত নয়। বাস্তবিকই পুজোর সময় কলকাতায় দাঁড়িয়ে বা বসে ভাঁড় হাতে চায়ে চুমুক দেবেন কোটি কোটি মানুষ।

পুজোয় চা খাবে কলকাতা, প্রয়োজন দু’কোটি মাটির ভাঁড়
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের চায়ের দোকানগুলির জন্য মাটির ভাঁড় তৈরি হচ্ছে দু’কোটি। সংখ্যাটা অতিরঞ্জিত নয়। বাস্তবিকই পুজোর সময় কলকাতায় দাঁড়িয়ে বা বসে ভাঁড় হাতে চায়ে চুমুক দেবেন কোটি কোটি মানুষ। এমনিতেই শহরে আড়াই কোটি মানুষ ভাঁড়ে চা খান। পুজোর সময় খাবেন আরও অতিরিক্ত দু’কোটি। অর্থাৎ পুজোর মাসে সাড়ে চার কোটি মানুষ ভাঁড়ে চা খাবেন বলে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন ভাঁড় প্রস্তুতকারক কুমোররা। 

Advertisement

কোটিতে ক’টা শূন্য বসে তা বলতে গেলে কর গুনতে হয় অধিকাংশ মানুষকে। সেরকম গুনে গুনে কোটি কোটি ভাঁড় তৈরি করবে ভাটিগুলি। রাজপথে দাঁড়িয়ে মেজাজে চুমুক দেবে মানুষ। তাই নাওয়াখাওয়া ভুলে এখন ভাঁড় তৈরি করেই চলেছেন মৃৎশিল্পীরা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতার বিভিন্ন ভাটিতে চলছে বিরামহীন বিভিন্ন আকারের ভাঁড় তৈরি। এখন গোডাউনে মজুত হচ্ছে। পুজোর ঠিক আগে শহরের দোকানগুলিতে সাপ্লাই হবে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহনলাল প্রজাপতি বলেন, ‘দুর্গাপুজোর সময় অসংখ্য মানুষ ঠাকুর দেখতে বেরন। তাঁরা রাস্তাঘাটে চা খান। বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরাও মাটির ভাঁড়ে চা খেতে চান। তাই তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত দু’কোটি।’ প্রস্তুতকারকরা বলেন, ‘মাটির অভাবে ভাঁড় তৈরির কাজ থমকে গিয়েছিল। কঠিন সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে কাজের গতি বেড়েছে। চাপও অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে।’ প্রস্তুতকারক সঞ্জয় প্রজাপতি বলেন, ‘একাধিক সমস্যার মধ্যে ভাঁড় তৈরি করতে হচ্ছে। বৃষ্টির জলে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সামনেই পুজো। এখন কাজের চাপ অনেক বেড়েছে।’ রাজেশ প্রজাপতি নামে অন্য একজন বলেন, ‘শ্রাবণ মাস থেকেই বৃষ্টির জন্য কাজকর্মের ক্ষতি হচ্ছে। এখন আবহাওয়া একটু ভালো হওয়ায় কাজ এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।’
চিৎপুর, কাশীপুর, ফুলবাগান, কাঁকুরগাছি, বাগমারি, উল্টোডাঙার কবিরাজ বাগান, বাগুইআটি, কসবা, বালিগঞ্জ ইত্যাদি এলাকার বহু মানুষ ভাঁড় তৈরির কাজে যুক্ত। তাঁরা জানান, পুজোর সময় অতিরিক্ত ভাঁড় তৈরি করলে বেশি টাকা মেলে। তা দিয়ে ধার দেনা কিছুটা শোধ করেন। তবে এখন মাটি এবং অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সে কারণে মাটির ভাঁড়ের দামও কিছুটা বেড়েছে। সেই ফাঁক গলেই ঢুকেছিল কাগজ ও প্লাস্টিকের কাপ। কিন্তু এখনও মাটির ভাঁড়েই চা খেতে চান ক্রেতারা। তাই দাম বাড়লেও ভাঁড়ের চাহিদা রয়েই গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ