নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভায় বিজেপিই ক্ষমতায় আসতে চলেছে। টালিগঞ্জে ইটখোলা ১ এবং ২’এ পুনরুদ্ধার হওয়া জলাশয়ের উদ্বোধনে এসে তেমনটাই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চ থেকে জনগণের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, আমি আশা করব, রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুরসভা যেন আগামী দিনে এক সূত্রে চলতে পারে। তাই আগামী নির্বাচনে গণদেবতার আশীর্বাদ চাই। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কলকাতার মানুষ জানে, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন হবে। তার সুফল মিলবে। এদিন উদ্বোধন হওয়া দুটি জলাশয়ের নাম রাখা হয়েছে শিব এবং শক্তি। নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ওই জলাশয়ে মাছও ছাড়েন শুভেন্দু।
টালিগঞ্জের পূর্ব পুটিয়ারির এই পুকুর দুটি কার্যত মজে গিয়েছিল। গত দেড় বছর ধরে সংস্কার করে জলাশয় দুটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। নতুন চেহারা দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছর আগে কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রকের তরফ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ফান্ড পায় কলকাতা। সেই টাকায় একাংশ এই পুকুরের সংস্কারে লাগানো হয়। যদিও মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে কলকাতা, বারাসাত, নিউ টাউন, রাজারহাট, মধ্যমগ্রাম সহ কেএমডিএ এলাকায় ৫ হাজার পুকুর ভরাট করা হয়েছে। এসব ‘স্কোয়ার ফুট’ কাউন্সিলারদের কাজ। শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা খাতের ফান্ড ও রাজ্য সরকারের টাকায় জলাশয় সংস্কারের কাজ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কুঁদঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে খালের ওপারে গিয়ে বাজার পেরলেই খানিকটা দূরে রয়েছে পূর্ব পুঁটিয়ারি ইটখোলা অঞ্চলের দু’টি পুকুর। ইটখোলার এক নম্বর পুকুরে পলি জমে গিয়েছে। লাগোয়া আরও দু’টি পুকুর রয়েছে। সেগুলির অবস্থাও ভালো নয়। জল থাকলেও তা ব্যবহারের অযোগ্য ছিল। পুকুরের পাশে ছিল ময়লার ঢিবি। কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। এবার ইটখোলা ১ নম্বর এলাকায় থাকা পাশাপাশি তিনটি পুকুরকে যুক্ত করা হয়েছে। পুকুরগুলির মাঝে যে আলপথ ছিল, তা কেটে ফেলায় এখন বড় জলাশয়ের চেহারা নিয়েছে। পুরসভার নিকাশি বিভাগ এই পুকুরগুলিকে পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। পুকুরের পাড় বাঁধাই হয়েছে। পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে চারপাশ। পুকুরের চারপাশে ‘গ্রিন জোন’ তৈরি হয়েছে।
ইটখোলা ২ নম্বর পুকুরটি আকারে অতটা বড় না হলেও, প্রায় তিন একর এলাকাজুড়ে রয়েছে। সেখানে একইভাবে মাটি কেটে পুকুরের গভীরতা বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব পুঁটিয়ারির এই দুটি পুকুর অনেকটাই মজে গিয়েছিল। জেসিবি দিয়ে কাটতে হয়েছে জলাশয়ের মাটি। নোংরা-আবর্জনা, নির্মাণ বর্জ্য পড়ত সেখানে। আগাছার জঙ্গলে জলাশয় নিজের চরিত্র হারাচ্ছিল। ফিরেছে নতুন রূপ। টলটল করছে জল। জলে রাজহাঁস। চারপাশে পায়ে চলার রাস্তা, বসার জায়গা। বসেছে সৌর বাতিস্তম্ভ। ইটখোলা ওয়ান পুকুরের মাঝে বানানো হয়েছে শিব মন্দির। নিকাশি বিভাগের কর্তারা বলেন, এই দু’টি পুকুর এলাকার ফুসফুসে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে একটি সুইমিং পুল ও খেলার জায়গা বানানোরও পরিকল্পনা রয়েছে।



