অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: শরৎ মানেই নদীর দু’পাড় জুড়ে রূপোলি কাশফুল। ভোরের আলোয় ফুটে ওঠা শিউলি। ফুল ছাড়া কি পুজো হয়? নাকি দেওয়া যায় অঞ্জলি? এই মণ্ডপে ঢুকতে গেলে আবার ফুলের ভিতর দিয়েই প্রবেশ করতে হবে। সবুজ ঘাস, ঢাকের আওয়াজ, মায়ের আলতামাখা পদচিহ্ন দেখতে দেখতে যখন মণ্ডপের শেষ প্রান্তে পৌঁছবেন, দেখবেন, আপনি হারিয়ে গিয়েছেন! মাতৃপ্রতিমা খুঁজতে হবে না। যেদিকে তাকাবেন, সেদিকেই দেখবেন মায়ের সহস্র মুখ! না, কোনও ম্যাজিক নয়। মিরর এফেক্ট দিয়ে ইলিউশন পদ্ধতি। দর্শনার্থীদের জন্য এবার এমনই ভিন্ন স্বাদের মণ্ডপ গড়ছে নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। এই পুজোর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিউটাউন সর্বজনীন পুজোর বয়স বেশি নয়। থিমের অভিনবত্বে মাত্র চার বছরেই জায়গা করে নিয়েছে দর্শনার্থীদের মনে। নতুন নতুন ভাবনায় চমকে দিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাই মহানগরীর ভিড়কে এখন টেক্কা দেবে সেন্ট্রাল মলের সামনের এই বিগ বাজেটের পুজো। এবার ফুলই এখানে পুজোর থিম। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ফুলের সাজে ফুলের মাঝে মা দুর্গা মোদের মাঝে’। শিল্পী রিন্টু দাসের ভাবনায় সেজে উঠছে মণ্ডপ। শিল্পী রিন্টুবাবু বলেন, গোটা মণ্ডপকে তিনটি ভাগে আমি ভাগ করেছি। সেইভাবেই থিমের কাজ চলবে। প্রথমভাগে থাকবে একটি ৫০ ফুটের বড় ফুল। সেই ফুলের ভিতর দিয়েই দর্শনার্থীরা পৌঁছে যাবেন দ্বিতীয় ভাগে। সেখানে চারপাশে সবুজ ঘাস। পুজোর আমেজ। উপর থেকে শিউলি ফুল ঝরে পড়বে। স্বর্গ থেকে মা যে মর্ত্যে নেমে এসেছেন, সেই পদচিহ্নের ছাপ থাকবে।
তারপর শেষভাবে থাকবে মাতৃ প্রতিমা। কিন্তু, এই ভাগে এসেই হারিয়ে যাবেন দর্শনার্থীরা। তাঁরা যেদিকে তাকাবেন, সেদিকেই দেখবেন মায়ের মুখ। শতশত মুখ। উপর থেকে শিউলি ঝরে পড়বে। এই স্থানটি ৬০ ফুট বাই ৬০ ফুট হলেও মনে হবে, আপনি বহু দূর বিস্তৃত কোনও জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন। কারণ, মিরর এফেক্টে ইলিউশন পদ্ধতি করা হয়েছে। এটাই চমক। পুজোর সম্পাদক সমরেশ দাস বলেন, পুজো মানে আনন্দ, উচ্ছ্বাস। আমরা নিশ্চিত, দর্শনার্থীরা এখানে এসে এবার অন্য অনুভূতি নিয়ে ফিরবেন। ফুলের থিমে ইলিউশনের কাজ এবার সত্যিই অন্য স্বাদ জোগাবে।-নিজস্ব চিত্র