Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তালাবন্ধ হাউস, ক্লাব রুমেই ‘অধিবেশন’ কাউন্সিলারদের, বেনজির ঘটনার সাক্ষী কলকাতা পুরসভা

নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা পুরসভা। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের সঙ্গে ‘চূড়ান্ত অসহযোগিতা’র অভিযোগ উঠল পুরসচিবের বিরুদ্ধে।

তালাবন্ধ হাউস, ক্লাব রুমেই ‘অধিবেশন’ কাউন্সিলারদের, বেনজির ঘটনার সাক্ষী কলকাতা পুরসভা
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা পুরসভা। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের সঙ্গে ‘চূড়ান্ত অসহযোগিতা’র অভিযোগ উঠল পুরসচিবের বিরুদ্ধে। শুক্রবার অধিবেশন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। চেয়ারপার্সনের নির্দেশের পরও কক্ষ খোলার অনুমতি দেননি নতুন পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাস। ক্ষুব্ধ মালাদেবী তৃনমূল কাউন্সিলারদের নিয়ে কাউন্সিলারস ক্লাবেই মাসিক অধিবেশন করেন। সেখানে পুর-কমিশনারের বিরুদ্ধে মুলতবি প্রস্তাব পাশ হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের ৯৬ জন কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। তবে এই অধিবেশনে বিরোধী বাম ও বিজেপির সদস্যদের না ডাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির সজল ঘোষ।

Advertisement

তৃনমূল কাউন্সিলারদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ইঙ্গিতেই পুর-কমিশনার নির্বাচিত বোর্ডকে এড়িয়ে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছেন। শুক্রবার পুরসভার অধিবেশন নির্ধারিত থাকলেও বৃহস্পতিবার আচমকা চেয়ারপার্সন মালা রায়কে না জানিয়ে তা বাতিলের নির্দেশিকা জারি করে সচিবালয়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সচিবের নির্দেশিকা সত্ত্বেও এদিন পুরসভায় আসেন মালা রায়, ফিরহাদ হাকিম সহ বহু তৃণমূল কাউন্সিলার। পুরসভায় এসে তৃণমূল কাউন্সিলারদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রথমেই পুরসচিবের কাছে চিঠি পাঠান চেয়ারপার্সন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘পুরসভার আইন অনুযায়ী অধিবেশন আয়োজন, স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত একমাত্র চেয়ারপার্সনের। তাঁর অনুমতি ছাড়া অধিবেশন বাতিল হল কীভাবে?’ এরপর তিনি অধিবেশন কক্ষ খুলে দিতে বলেন। ঘটনাক্রমে এদিন সকালেই পুরসভার সচিব হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন কিশোরকুমার বিশ্বাস। তাঁকে ডেকে পাঠান মালা। কিন্তু আধঘণ্টা হয়ে গেলেও সচিব চেয়ারপার্সনের ঘরে না আসায় সচিবের ঘরেই চলে যান মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলার। সেখানে তুমুল হই হট্টগোল চলে। সচিব জানিয়ে দেন, ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের অনুমতি না পেলে কক্ষ খুলতে পারবেন না। তখন কাউন্সিলারস ক্লাবে অধিবেশনের সিদ্ধান্ত হয়। তৃণমূলের কাউন্সিলাররাই চেয়ার-টেবিল সরিয়ে ক্লাব রুমকে অধিবেশনের উপযুক্ত করে তোলেন। সেখানে কাউন্সিলার সংহিতা দাস পুর-কমিশনারের বিরুদ্ধে মুলতবি প্রস্তাব আনেন। প্রস্তাবের উপর আলোচনা করেন ফিরহাদ হাকিম, অতীন ঘোষ, বৈশ্বানর চ্যাটার্জি, বিশ্বরূপ দে। প্রস্তাব পাশ হয় সর্বসম্মতিক্রমে। মালা রায় বলেন, ‘চেয়ারপার্সনকে এড়িয়ে অধিবেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত বেআইনি। মাসে একটা অধিবেশন করতেই হবে। নাহলে সংকট তৈরি হবে। এটা কাঙ্খিত নয়। উনি অধিবেশন কক্ষ খোলেননি, তাই বাইরেই অধিবেশন হল।’ মেয়র বলেন, ‘এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখের। রাজ্য সরকারকে বলব, সংঘাত নয় কাজ করতে হবে। নির্বাচিত বোর্ডকে যদি আপনারা না মানেন, সাংবিধানিক সংকট দেখা দেবে।’ 
যদিও এই অধিবেশনের ‘বৈধতা’ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সচিব যেহেতু নোটিস দিয়ে বাতিল করেছেন, তাই এই অধিবেশন পুরসভার খাতায় লিপিবদ্ধ হবে না। বাম কাউন্সিলার মধুছন্দা দেব বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি কোনোদিন হয়নি। এটা কাম্য নয়।’ বিজেপির সজল ঘোষ, মীনাদেবী পুরোহিত, বিজয় ওঝারা ‘অবৈধ অধিবেশন’ নিয়ে পুর-কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেছেন। সজল বলেন, ‘এমন নাটক চলতে পারে না। পুরসভার মর্যাদাহানি হয়েছে। পুরমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাব। প্রয়োজনে বোর্ড ভেঙে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বসিয়ে দেওয়া হোক। আমরা অনাস্থা আনলে এই বোর্ড এমনিতেই থাকবে না। আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে, সচিবকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে।’ তাঁর আরও দাবি, পুরসভা থেকে ফাইল লোপাটের চেষ্টা চলছে। এদিকে, অধিবেশন কক্ষ না খোলার জন্য মালা রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বৈশ্বানক চট্টোপাধ্যায়রা নিউ মার্কেট থানায়ও অভিযোগ দায়ের করেন।’ এদিনের ঘটনা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘ শুনেছি, নবনিযুক্ত সচিব হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এসব আমরা বরদাস্ত করব না। নগরপালকে বিষয়টি দেখার জন্য বলব।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ