নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাধারণত পুজোর সময় বা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে রাতের আকাশে লেজার লাইটের বাহার দেখা যায়। কিন্তু বিমানবন্দর চত্বরে এই তীব্র আলোর ঝলকানিতে কত বড়ো বিপদ হয়ে যেতে পারে, তা সামনে এনেছিলেন বিভিন্ন বিমানের পাইলট। শেষে অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা বিমানবন্দরের আশপাশে লেজার শো-তে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের নজরদারির ফলে গত কয়েক মাস বিমানবন্দরের আশপাশে লেজার লাইট দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু শনিবার রাতে লেজার লাইটে চোখ ধাঁধিয়ে যায় এক পাইলটের। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কুয়ালালামপুর থেকে কলকাতাগামী মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের (এমএএইচ-১৮৪) পাইলট তীব্র লেজার লাইট দেখতে পান। রানওয়ে ১৯এল-এ অবতরণের ঠিক আগে মধ্যমগ্রাম-বারাসত এলাকার আকাশে এই আলো দেখতে পান পাইলট। রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। বিমানে ছিলেন ১৫৯ জন যাত্রী এবং সাতজন বিমানকর্মী। রানওয়ে থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালীন বিমানের ককপিটে লেজার আলোর ঝলক পড়ে। অবতরণের মুহূর্তে এই ধরনের ঘটনা পাইলটের দৃষ্টিশক্তিতে বড়ো সমস্যা তৈরি করতে পারত। ঘটে যেতে পারত দুর্ঘটনা। কিন্তু দক্ষতার সঙ্গে পাইলট নিরাপদেই বিমানটি অবতরণ করান। তারপরই পাইলটের তরফে গোটা বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের তরফে খোঁজখবর করা হয়। মধ্যমগ্রাম-বারাসত এলাকায় শনিবার রাতে কাদের উদ্যোগে অনুষ্ঠান হয়েছিল, সেখানে কী ধরনের লেজার লাইট ব্যবহার করা হয়েছিল, সব বিষয়ে খবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও খোঁজ চলছে। ইতিমধ্যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে অভিযোগ জানিয়েছেন পাইলট। কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানাতেও লেজার লাইটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। লেজার আলো কোথা থেকে এসেছিল, সে ব্যাপারে খোঁজ চলছে। তাছাড়া বিমানবন্দর কর্তৃপেক্ষর তরফে সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে। সামনেই পুজো-পার্বণ, উৎসব থাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা বিমানবন্দরের আশেপাশে লেজার লাইট কেউ ব্যবহার করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বিমানবন্দর ও পুলিশের স্পষ্ট কথা, যাত্রীদের সুরক্ষাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তার সঙ্গে কোনো অবস্থায় আপস নয়।



