Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কাঞ্চননগরের কঙ্কালেশ্বরী

‘কাঞ্চননগরের ছুরি?’ — ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এর সেই ‘নাইফ থ্রোয়িং’ দৃশ্যটা মনে আছে? ছুরিগুলি যখন বাক্স থেকে বের করা হচ্ছে, তখন এটাই ছিল লালমোহন ‘জটায়ু’ গাঙ্গুলির প্রশ্ন। বর্ধমানের সেই কাঞ্চননগরের প্রসিদ্ধি ছুরি-কাঁচির জন্যই। তবে সেখানেই রয়েছে আরও এক বিশেষ আকর্ষণ।

কাঞ্চননগরের কঙ্কালেশ্বরী
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
‘কাঞ্চননগরের ছুরি?’ — ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’-এর সেই ‘নাইফ থ্রোয়িং’ দৃশ্যটা মনে আছে? ছুরিগুলি যখন বাক্স থেকে বের করা হচ্ছে, তখন এটাই ছিল লালমোহন ‘জটায়ু’ গাঙ্গুলির প্রশ্ন। বর্ধমানের সেই কাঞ্চননগরের প্রসিদ্ধি ছুরি-কাঁচির জন্যই। তবে সেখানেই রয়েছে আরও এক বিশেষ আকর্ষণ।
Advertisement
পাথরের উপর খোদাই করা মানবদেহের কঙ্কালরূপ। সেই কঙ্কালের উপর ফুটে উঠেছে শিরা-উপশিরা-ধমনী। দেখলে মনে হবে মাংস ছাড়া কোনও মানবদেহ ঠিক যেমন দেখতে, এই মূর্তিও ঠিক সেরকমই। ভয়াল-ভয়ঙ্কর কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। বর্ধমানের অন্যতম জাগ্রত দেবী কঙ্কালেশ্বরী। দেবী এখানে কঙ্কালরূপিণী। অষ্টভুজা চামুণ্ডা মূর্তি। উচ্চতা প্রায় ১.৮ মিটার। মায়ের এই মূর্তিকে অনেকেই বৌদ্ধ চামুণ্ডার রূপ বলেও বিশ্বাস করেন। গলায় নরমুণ্ডের মালা। পায়ের নীচে রয়েছেন মহাদেব। মূর্তির উপরে ডান দিকে হাতির মাথা। নীচে ডান দিকে উলঙ্গ পুরুষের কাঁধে শবদেহ। বাঁ দিকে এক নগ্ন নারীমূর্তি। দেবীর বাঁ দিকে আরও একটি চামুণ্ডা মূর্তিও রয়েছে। 
জনশ্রুতি, ১৩২০ সালে ভয়াবহ বন্যায় ভেসে যায় বর্ধমান। সেই বন্যায় একটি কালো পাথর ভেসে আসে বর্ধমানের কালীদহ এলাকায়। উল্টোভাবে থাকা সেই পাথরে যে মায়ের মূর্তি খোদাই করা রয়েছে, তা কেউ খেয়াল করেননি। ধোপারা ওই পাথরকেই কাপড় কাচার ‘পাটা’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে এক ভূমিকম্পে ওই পাথর উল্টে গিয়ে মায়ের মূর্তি সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি জানান বর্ধমানের রাজাকে। আষাঢ় মাসের উল্টোরথে তিনি কাঞ্চননগরে কঙ্কালেশ্বরী দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এলাকার বাসিন্দাদের জমিজমা দিয়ে রাজা তাঁদের মায়ের সেবায়েত করে দেন। মন্দিরে শুরু হয় নিত্যপুজো। এছাড়াও অমাবস্যায় বিশেষ আরাধনারও চল রয়েছে। আর গোটা বছর ধরে ভক্তরা অপেক্ষায় থাকেন কালীপুজোর। ওই দিন দেবীর বাৎসারিক পুজো হয়। মন্দিরে সেদিন উপচে পড়ে ভক্তদের ভিড়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ