Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নজরে একাধিক ‘প্রভাবশালী’ বিজ্ঞাপন সংস্থা, ৩০টি অবৈধ কাঠামোয় নোটিস ঝোলাল পুরসভা

আপাতত শহরে এমন ৩০টি বেআইনি বিজ্ঞাপন হোর্ডিং পুর কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

নজরে একাধিক ‘প্রভাবশালী’ বিজ্ঞাপন সংস্থা, ৩০টি অবৈধ কাঠামোয় নোটিস ঝোলাল পুরসভা
  • ১২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঘাযতীনে একটি মন্দিরের গায়ে তৈরি হয়েছে ঢাউস বিজ্ঞাপনি কাঠামো। কে অনুমোদন দিল, কেউ জানে না! সেটিকে বেআইনি হোর্ডিং হিসাবে চিহ্নিত করে নোটিস সাঁটিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

Advertisement

গড়িয়াতে একটি মাঠে তৈরি হয়েছে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকাঠামো। সেটিও সম্পূর্ণ বেআইনি। বিজ্ঞাপনের ওই কাঠামোতেই নোটিস ঝুলিয়ে দিয়েছে পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ। এমন একটি-দু’টি নয়, আপাতত শহরে এমন ৩০টি বেআইনি বিজ্ঞাপন হোর্ডিং পুর কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে ১৫টি অবৈধ কাঠামোতে নোটিস ঝোলানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এই বেআইনি বিজ্ঞাপনগুলির বেশিরভাগই ‘প্রভাবশালী’ একাংশের। সব মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছ’টি বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা রয়েছে, যারা এই অবৈধ বিজ্ঞাপনি স্ট্রাকচার বানিয়ে প্রচুর টাকা কামিয়েছে। পুরসভার কর ফাঁকি দিয়েছে এতদিন। এসব সংস্থার পিছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে। সেই রাজনীতির ‘দাদা’দের প্রশ্রয়েই শহরজুড়ে বেআইনি বিজ্ঞাপনি কাঠামোর রমরমা হচ্ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেগুলি ভাঙতে তোড়জোড় শুরু হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে। 
বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বেসরকারি বিজ্ঞাপন বা তার কাঠামো সাধারণত ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি বা বাড়িতে থাকে। যে কাঠামোগুলি ইতিমধ্যে পুরসভা অবৈধ বলে চিহ্নিত করেছে, তার বেশিরভাগই সরকারি জমিতে মাথা তুলে রয়েছে। কোথাও ফুটপাত দখল করে, কোথাও আবার ফাঁকা জমিতে কোনো নিয়ম না মেনে তৈরি করা হয়েছে। আবার এমন অনেক বিজ্ঞাপনি কাঠামো রয়েছে, যেগুলি অনুমোদন নিয়ে বানানো হলেও চুক্তির বাইরে গিয়ে আয়তন বাড়ানো হয়েছে। বা ব্যক্তিগত জায়গায় তৈরি হলেও তা সরকারি জায়গার মধ্যে ঢুকে রয়েছে কিছুটা। উদাহরণ টেনে এক কর্তা বলেন, ‘পার্ক সার্কাস ৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এমন একটি বিজ্ঞাপনের কাঠামো রয়েছে। সেটি ব্যক্তিগত জমিতে গড়া হলেও আয়তন বৃদ্ধির ফলে সেটি ব্রিজের উপরে চলে এসেছে। এক্ষেত্রেও নোটিস দেওয়া হয়েছে।’
আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, এই ধরনের অবৈধ বিজ্ঞাপন কাঠামোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় এতদিন সেভাবে ‘অ্যাকশন’ নেওয়া যায়নি। এবার পদক্ষেপ করা হবে। যেসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানার জমিতে কাঠামো গড়া হলেও ‘ওভার সাইজ’ হয়েছে, তাদের থেকে মোটা অঙ্কের জরিমানা নিয়ে সেগুলি ‘রেগুলারাইজ’ করা হবে। বাকি বেআইনি কাঠামোগুলি ভেঙে ফেলা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ