Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা হয়েই ট্রেনে কেরলে পৌঁছেছিল জেএমবি জঙ্গি শাদ, জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল অসম এসটিএফ

কলকাতা হয়েই ট্রেনে কেরলে পৌঁছেছিল জেএমবি জঙ্গি শাদ, জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল অসম এসটিএফ
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জেএমবি জঙ্গি মহম্মদ শাদ রবি ওরফে শাব শেখ কলকাতা হয়েই কেরলে গিয়েছিল। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় পৌঁছে হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরেছিল সে। তাকে টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ধরা পড়া আর এক জঙ্গি মিনারুল। হেফাজতে থাকা শাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য হাতে এসেছে অসম পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ)।  একইসঙ্গে জেএমবি সংগঠনকে চাঙ্গা করার জন্য শাদের নির্দেশমতো আর এক জঙ্গি আব্বাস কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগনা বীরভূম ও কেরল রাজ্য সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে জেএমবির তহবিল গড়ায় টাকা তুলছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
শাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, সে বিভিন্নভাবে অস্ত্র ও বিস্ফোরক জোগাড়ের- চেষ্টা করছিল। প্রথমে সে অসমের কয়েকজন বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে।  সেখান থেকে একে সিরিজের আগ্নেয়াস্ত্র কেনার জন্য ‘ডিল’  পাকা করে ফেলে। এরজন্য টাকাপয়সা পেমেন্ট হয়ে যায়। এরপর নাইন এমএম, সেভেন এমএমের মতো ছোট আগ্নেয়াস্ত্র কেনার উপর জোর দেয়। সেই কারণে  ঝাড়খণ্ড ও বিহারের অস্ত্র কারবারিদের সঙ্গে কথা বলে। দরদাম চূড়ান্ত হওয়ার পর টাকা মেটানো  বাকি ছিল। এই অস্ত্র যেত খারিজি মাদ্রাসায় প্রশিক্ষণের জন্য। এই বেআইনি অস্ত্র কারবারিদের মাধ্যমেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় খনি থেকে জিলেটিন স্টিক চুরি করে বাইরে বিক্রি করা চক্রের এক পান্ডার সঙ্গে। তার সঙ্গে পাকুড়ে গিয়ে দেখাও করে। এই জিলেটিন স্টিক মুর্শিদাবাদে নিয়ে এসে মিনারুলের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর কথা ছিল।  একইসঙ্গে গ্রেনেড ও বোমা তৈরির কাঁচামাল ওপারে পাঠানো হতো। সেখানে আইইডি তৈরি হয়ে মুর্শিদাবাদে আসত। মিনারুলের মাধ্যমে এই আইইডি যেচ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। এখান থেকেই তদন্তকারীদের অনুমান বিস্ফোরণের ছক কষছিল জেএমবি জঙ্গি শাদ। নভেম্বর মাসে তার কাছে বাংলাদেশ থেকে টাকা এসে পৌঁছনোর কথা ছিল।  তার পরিকল্পনা ছিল মুর্শিদাবাদে এগুলি রেখে কেরলে যাবে। টাকা না পৌঁছনোয় সে কেরলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শাদ জেরায় জানিয়েছে, কেরলে কিছুদিন কাজের পর তার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানে যাওয়া। সেখানে গিয়ে সে যে হ্যান্ডলারের নির্দেশমতো কাজ করছে, তার সঙ্গে দেখা করবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশ, পাশাপাশি টাকাও নিয়ে আসবে। ঠিক ছিল আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছবে সে। 
ধৃতরা অসম পুলিসের এসটিএফের অফিসারদের জানিয়েছে, টাকা না থাকায় সে মিনারুলকে নির্দেশ দেয় রাজ্য থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে। জেএমবির পুরনো ঘাঁটি ছিল, এমন জায়গাকেই বেছে নেওয়া হয়।  পাশাপাশি নতুন দুই জেলা ও কলকাতায় তাদের সংগঠনের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের বাছাই করা হয়। আবাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা ঘুরে তহবিল সংগ্রহের। সেইমতো সে বীরভূম, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি দুই চব্বিশ পরগনা ও কলকাতায় এসে ঘুরে ঘুরে টাকা জোগাড় করে। এসটিএফ জেনেছে অল্প কয়েকদিনেই তারা ১৫ লক্ষের বেশি টাকা তুলে ফেলে। সেই টাকা শাদের কাছ পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই সে ধরা পড়ে যায়। 
সম্পর্কিত সংবাদ