Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কাকতাড়ুয়া থেকে মুখা  

কাকতাড়ুয়া থেকে মুখা
 
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
কাঠের লাঙল দিয়ে চাষ করছেন কৃষকরা। গ্রাম-বাংলায় এ দৃশ্য বড় চেনা। চাষ করতে করতে অনেক সময়েই ভেঙে যেত সেই লাঙল। তা দিয়ে মানুষের মুখ বানিয়ে জমিতে কাকতাড়ুয়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ধীরে ধীরে সময় গড়াল। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে মুখোশ শিল্পের রূপ পেতে শুরু করে কাকতাড়ুয়া। স্থানীয়ভাবে তা পরিচিত ‘মুখা’ নামে। কুশমণ্ডি তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে চণ্ডীমঙ্গল গানের প্রচলন ছিল। সেই গানে গম্ভীরা নাচ করতেন পুজো উদ্যোক্তারা। গম্ভীরা নাচে ব্যবহার করা হতো শোলার তৈরি দেবদেবীর মুখোশ। তা ধীরে ধীরে কাঠের মুখোশে রূপান্তরিত হয়। গ্রামের যে সমস্ত ব্যক্তি কাঠের লাঙল তৈরি করতে জানতেন, তাঁরাই কাঠের মুখোশ তৈরির সঙ্গে যুক্ত হন। এই শিল্প ঠিক কত বছরের পুরনো, তা অবশ্য সঠিকভাবে বলতে পারেন না কেউই।
Advertisement
অনেকে বলেন, হিন্দু দেবদেবীদের কাল্পনিক মূর্তির মুখ তৈরির মধ্যে দিয়েই মুখোশের উৎপত্তি। যা নিয়ে বিরুদ্ধ মতও রয়েছে বিস্তর। কুশমণ্ডি মহিষবাথান এলাকার প্রয়াত শিল্পী শঙ্কর সরকার কাঠের লাঙলের পাশাপাশি জমিতে কাকতাড়ুয়ার মুখোশ তৈরি করতেন। বিভিন্ন দেবদেবীর মুখ বানাতে শুরু করেন কাঠ দিয়ে। সাধারণ মানুষের কাছে ক্রমেই তা জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ১৯৫৭ সালে কুশমণ্ডি মহিষবাথান হস্ত সমবায় সমিতির জন্ম হয় শঙ্কর সরকারের হাত ধরেই। এলাকার লাঙল শিল্পীরা কাঠের মুখোশ বানিয়ে বিক্রি করতেন। সেই সময় গম্ভীরা নাচের জন্য নানা ধরনের কালীর মুখোশ বিক্রি হতো। ধীরে ধীরে কুশমণ্ডির সেই মুখোশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বিশ্বের বাজারে। বর্তমানে নানান দেবদেবীর পাশাপাশি জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মুখোশও বানাচ্ছেন শিল্পীরা। তা বিক্রি হয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে।
২০২২ সালে কুশমণ্ডির মুখোশ শিল্পীরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পরিচয়পত্র ও জিআই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও বিক্রি হয় এই মুখোশ। মহিষবাথান হস্ত সমবায় সমিতিতে নতুন প্রজন্মকে মুখোশ তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ