সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পাইকরের নয়াগ্রামে ১৩মাসের শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় বউদিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণে উঠে এল হাড় হিম করা তথ্য। তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় রয়েছেন দেহ উদ্ধারে বাধা দেওয়া গ্রামের কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্য।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পাইকরের নয়াগ্রামে ১৩মাসের শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় বউদিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণে উঠে এল হাড় হিম করা তথ্য। তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় রয়েছেন দেহ উদ্ধারে বাধা দেওয়া গ্রামের কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্য।
জানা গিয়েছে, পেশায় কাঠমিস্ত্রি আলি হোসেনের প্রথমপক্ষের স্ত্রী মারা যাওয়ার কিছুদিন পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথমপক্ষের চার ছেলে। তাঁরা ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়িতে দুই ছেলের স্ত্রী ও সন্তানরা থাকেন। বুধবার দুপুরে ওই শিশুকন্যাকে তাদের কাছে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে মাঠে কাজে গিয়েছিলেন আলি হোসেন। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে শিশুকন্যাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। পরে বাড়ির ছাদে শিশুকন্যার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি কবর দেওয়ারও তোড়জোড় করে পরিবার। অভিযোগ, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠাতে গেলে বাধা দেন গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য কংগ্রেসের আপেল শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কংগ্রেস সদস্য দেহ নিয়ে যেতে বাধা দেন। এমনকি তাঁর চাপে শিশুর বাবা এবং মা মুখ খুলতে পারছিলেন না। পরে অবশ্য দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। আপেল বলেন, পরিবার যদি অভিযোগ না করে তাহলে তো পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে যেতে পারে না। সেটাই বলা হয়েছিল। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ভূমিকা সন্দেহজনক। তাঁকে নোটিশ পাঠিয়ে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুনের ইঙ্গিত পেতেই পুলিশ মৃত শিশুর মা সাকিলা বেগমকে জানায়। এরপরই সাকিলা থানায় মেজ বউমা সোনিয়ার নামে অভিযোগ দায়ের করেন। সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তিনদিন হেপাজতে নিয়ে পুলিশ তদন্ত করে। সে খুনের অভিযোগ স্বীকার করে। শনিবার তাকে নিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তাতেই উঠে আসে হাড়হিম করা তথ্য।
পুলিশ জানিয়েছে, পুনর্নির্মাণে একটি পুতুল দেওয়া হয়েছিল সোনিয়ার হাতে। ওইদিন আলি হোসেন স্ত্রীকে নিয়ে যখন মাঠে যায় তখন শিশুটি বাড়ির মেঝেতে বসেছিল। সোনিয়া শিশুটিকে প্রথমে তুলে মেঝেতে আছাড় মারে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বাথরুমে গামলায় জলে ডুবিয়ে রাখে। শিশুটি ছটফট করতে করতে নিস্তেজ হয়ে যায়। পরে কাপড়ে জড়িয়ে বস্তাবন্দি করে ছাদে রেখে আসে। শিশুটির জামাকাপড় বাড়ির অদূরে জঙ্গলে ফেলে আসে। এরপর শিশুটির দেহ লোপাট করতে যাওয়ার সময় আলি হোসেন ও তাঁর স্ত্রী চলে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গলে সোনিয়ার দেখানো জায়গায় শিশুটির জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।
কেন এই নৃশংস খুন? পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত সোনিয়া নিঃসন্তান। তা নিয়ে কটূক্তি শুনতে হত তাকে। তাছাড়া শ্বশুর, শাশুড়ির সঙ্গে তার বনিবনা হত না। প্রায়ই অশান্তি হত। সেকারণে সে শিশুটিকে নৃশংসভাবে খুন করে। বউমার কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন শিশুটির মা। উল্লেখ্য, বছরখানেক আগেও বাড়ি লাগোয়া পুকুর থেকে এই পরিবারের এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল।