Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কিডনি পাচার: ৩ বছরে ধৃতদের সম্পত্তি বেড়েছে ঝড়ের গতিতে

অশোকনগরের কিডনি পাচার কাণ্ডে ধৃত চারজনকে হেফাজতে নিল পুলিস। যদিও বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতলকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

কিডনি পাচার: ৩ বছরে ধৃতদের সম্পত্তি বেড়েছে ঝড়ের গতিতে
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরের কিডনি পাচার কাণ্ডে ধৃত চারজনকে হেফাজতে নিল পুলিস। যদিও বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতলকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ঘটনার শিকড়ে পৌঁছতে পুলিস ধৃতদের জেরা করার পাশাপাশি কিডনি গ্রহীতাদের জেরা করবে। কয়েকজন গ্রহীতাকে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে অশোকনগর থানার পুলিসের পক্ষ থেকে। পুলিস জেনেছে, ধৃত পাঁচজনেরই সম্পত্তি বছর তিনেকের মধ্যে ঝড়ের গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের অ্যাকাউন্ট সিজ করার পাশাপাশি সম্পত্তি ‘ক্রোক’ করার পথে হাঁটতে চলেছে তদন্তকারীরা। 

Advertisement

কয়েকদিন আগে অশোকনগরে একটি কিডনি পাচার চক্রের পর্দা ফাঁস করে পুলিস। ঘটনায় সুদখোর বিকাশ ওরফে শীতলকে গ্রেপ্তার করার পর চক্রের মূল মাথা গুরুপদ জানা ওরফে অমিতকে পাকড়াও করে পুলিস। পাশাপাশি দম্পতি গৌর ও মৌসুমী সর্দারকে গ্রেপ্তার করার পর বারাসতের পিয়ালী দে’ও পুলিসের হেফাজতে। শীতলকে মঙ্গলবার বারাসত আদালতে তোলা হলে দু’দিনের জেল হেফাজত হয়েছে। বাকি চারজনের চারদিনের পুলিসি হেফাজত হয়েছে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সিন্ডিকেটের বাড়বাড়ন্ত করোনার পর। টিমের সদস্যরা বছর তিনেকের মধ্যেই প্রায় কোটি টাকা করে সম্পত্তির মালিক হয়ে গিয়েছে। কেউ নিজে জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেছেন, কেউ বা ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি বিপুল সোনার গয়নার মালিক হয়েছেন। শীতল তার জ্বলন্ত উদাহরণ। স্বাভাবিকভাবে এত পরিমাণ টাকার লেনদেন কীভাবে তাঁরা করতেন সেই জন্য পাঁচজনেরই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট সিজ করবে পুলিস। পাশাপাশি কীভাবে টাকা দেওয়া হতো বিদেশিদের ক্ষেত্রে তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে বেশ কয়েকজন ভিন রাজ্যের কিডনি গ্রহীতার হদিশ পেয়েছে পুলিস। তাদের সঙ্গে কীভাবে এই চক্রের যোগাযোগ হয়েছিল বা কত টাকার বিনিময়ে তাঁরা কিডনি কিনেছিলেন সেই দিকটিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে অশোকনগর থানা। বারাসাত পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার স্পর্শ নিলাঙ্গী বলেন, ধৃতরা সেই অর্থে মুখ খুলছে না। যেটুকু বলছে নিজেদের বাঁচার জন্য। তবে, শেষ পর্যন্ত তদন্ত আমরা করব। যে আইনজীবী বা চিকিৎসকের নাম উঠে আসছে তাকে জেরা করতে হাতে সঠিক তথ্য আনার কাজ শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ