Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খসে পড়ছে চাঙড়, ভেঙেছে দরজা, জানালা, গ্রন্থাগার যেন ভূতুড়ে বাড়ি

খসে পড়ছে চাঙড়, ভেঙেছে দরজা, জানালা, গ্রন্থাগার যেন ভূতুড়ে বাড়ি
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লাইব্রেরি নাকি ভূতুড়ে বাড়ি, আপাতদৃষ্টিতে দেখে বোঝার উপায় নেই। অথচ এই বাড়িটির ভিতরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে হাজার হাজার বই। ডায়মন্ডহারবার ১ নম্বর ব্লকের নেতড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বোসপাড়ায় ‘নেতড়া গ্রামীণ পাঠাগারের’ এখন এমন বেহাল দশা। ঘরের সিলিং থেকে খসে পড়েছে চাঙর। ঘুন ধরেছে বহু বইয়ে। দরজা, জানালাও ভাঙা। এমন ভগ্নপ্রায় ভবনের মধ্যেই চলছে এই লাইব্রেরি। সেখানেই বসতে হয় গ্রন্থাগারিককে। তবে বিষয়টি নজরে পড়ায় নতুন ভবন তৈরি করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। 
Advertisement
১৯৪২ সালে শুরু করা হয়েছিল এই পাঠাগার। পরবর্তী সময়ে সরকারপাড়া এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে সেটি স্থানান্তরিত হয়। পাঠকদের আগ্রহ বাড়তে থাকায়, স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে নেত‌ড়া বোসপাড়া এলাকায় একটি নতুন ভবন তৈরি করে সেখানেই সরিয়ে আনা হয় পাঠাগারটিকে। ১৯৮২ সালে সরকারি স্বীকৃতি পায় এই গ্রন্থাগার। একটা সময় অনেকে আসতেন এখানে। কিন্তু পরিচর্যা ও লাইব্রেরিয়ানের অভাবে ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় এই পাঠাগার। ছাদ ফুটো হয় বৃষ্টির জল ঢুকে নষ্ট করে দিয়েছে বহু বই। কিছুদিন আগে নতুন গ্রন্থাগারিক নিয়োগ হওয়ার পর ফের চালু হয়েছে এই লাইব্রেরি। কিন্তু ভিতরে যা পরিস্থিতি, তাতে সেখানে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ বলেই দাবি এলাকাবাসীর। তাঁদের বক্তব্য, সরকার যত তাড়াতাড়ি ওই লাইব্রেরি ভবন নিয়ে ব্যবস্থা নেবে, ততই মঙ্গল।
লাইব্রেরিয়ান রূপমঞ্জুরী দাস জানান, লাইব্রেরির পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, প্রথমে ঢুকতেই ভয় লাগতো। তাই শুরুতে পাশের একটি প্রাইমারি স্কুলে বসতাম। পরে এলাকাবাসীর সাহায্য নিয়ে গ্রন্থাগারের ভিতরটা পরিষ্কার করে এখন সেখানেই চেয়ার টেবিল পেতে বসছি। অনেক বইপ্রেমী মানুষও ফের ভিড় জমাচ্ছেন এই লাইব্রেরিতে।
সম্পর্কিত সংবাদ