তিনদিনের রাসযাত্রা শেষে চতুর্থ দিন গোষ্ঠ উৎসব। গঙ্গার ধারের রাসমঞ্চ থেকে শ্যামসুন্দর জিউ ও শ্রীরাধিকার মূল মন্দিরে ফিরে যাওয়ার পালা। মাঝপথে নগরবাসীর গৃহে গৃহে পুজো গ্রহণ। এই ‘গোষ্ঠ বিহারে’র পরই বিকেলে বিরাট ভোগ। আর সেই বিরাট ভোগের খিচুড়ি লুট দেখতেই প্রতি বছর ভক্তের ঢল নামে খড়দহের শ্যামসুন্দর জিউ মন্দিরে।
Advertisement
নাম-সংকীর্তন ও শোভাযাত্রা সহযোগে গোষ্ঠ বিহারের শেষে চতুর্দোলায় ভক্তদের কাঁধে চড়ে মন্দিরে ফেরেন শ্যামসুন্দর। অগণিত জনতার মূল আকর্ষণ তখন মন্দিরের নাটমঞ্চ। সেখানেই রাখা থাকে পেল্লায় এক ধাতব কন্টেনার বা চৌবাচ্চা। তার মধ্যে থাকে বিরাট ভোগের গরম খিচুড়ি। এবারও প্রায় ১৮ কুইন্টাল চাল-ডালের খিচুড়ি তৈরি হয়েছে। ওই খিচুড়িই হবে লুট। সেই দৃশ্য দেখতে শুধু মন্দির চত্বর নয়, চারপাশের বাড়ির ছাদগুলিতেও ঠাসা ভিড়। শ্যামসুন্দর ও শ্রীরাধিকা মন্দিরে ফেরার আগে থেকেই স্বেচ্ছাসেবকরা নাটমঞ্চ চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। গরম খিচুড়ি ভরা সেই ধাতব চৌবাচ্চা পাহারা দিতে শুরু করেন। নাটমঞ্চের পাশেই পরপর মাটির উনুন। সেখানে কাঠের জালে বিশাল বিশাল ডাবু কড়াইয়ে রান্না হয় সেই খিচুড়ি। শ্যামসুন্দর জিউ মন্দিরে প্রবেশের পর স্বেচ্ছাসেবকদের ঘেরাটোপে থাকা নাটমঞ্চের ধাতব চৌবাচ্চায় থাকা সেই খিচুড়ি ভোগ সহযোগে তাঁর পুজো করা হয়। নাটমঞ্চের চারপাশে জমায়েত করা ভক্তের দল অপেক্ষা করতে থাকেন। তাঁদের হাতে বালতি, গামলা, থালা, বাটি। সেইসব বাসন ঠুকে ভক্তরা ঝনঝনানি শব্দে ভরিয়ে তোলেন মন্দির। সেই সঙ্গে চলে শ্যামসুন্দরের নামে জয়ধ্বনি। পুজো শেষ হতেই নাটমঞ্চের চারপাশ থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে নেন স্বেচ্ছাসেবকরা। বালতি, গামলা, থালা সহ বিভিন্ন বাসনপত্র নিয়ে ধাতব কন্টেনারের চারপাশে ঝাঁপিয়ে পড়েন ভক্তরা। কন্টেনারের ভোগ শেষ হওয়ার পূর্বেই ভিড়ের মধ্যে কে কত আগে সেই গরম খিচুড়ি তুলে আনতে পারেন, তারই অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলে। খিচুড়ি তুলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাত্র থেকে তা পড়তে থাকে গোটা মন্দির চত্বরে। তার ফলে মার্বেলের মেঝেতে পা পিছলে উল্টে পড়ার ঘটনাও এই রীতির অন্যতম আকর্ষণ।



