পুনে: ছবি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত খাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে হবু স্বামীর। কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর পর এমনটাই রটিয়েছিল তার বাগদত্তা ও খুনে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল। কিন্তু তাঁর নিজের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যই সন্দেহ বাড়িয়েছিল পুলিশের। কেতনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম থেকেই ‘দুর্ঘটনা তত্ত্ব’ মানতে পারেননি কেতনের দিদি। একাধিক বিষয়ে সন্দেহ ছিল তাঁর মনে। মৃত্যুর চার দিন পর সমবেদনা জানাতে কেতনের বাড়িতে যায় সিয়া। তখনই ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে তাঁর দিদির প্রশ্নের মুখোমুখি হয় সে। জানা গিয়েছে, সিয়ার বক্তব্য ছিল অসংগতিতে পরিপূর্ণ। তাতেই সন্দেহ পোক্ত হয় কেতনের দিদির মনে। শেষ পর্যন্ত পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে কেতনের পরিবার।
অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত দীপাবলিতে প্রথমবার দেখা হয়েছিল সিয়া ও চেতনের। ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় দু’জন। ততদিনে কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে পরিবার। তদন্তে উঠে এসেছে, শেষ সাত মাসে সিয়া ও চেতন ২ হাজারেরও বেশিবার ফোনে কথা বলেছে। প্রায়ই দু’জনের কথোপকথন চলত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দু’জনের মোট ২৩৮ ঘণ্টা ফোনালাপের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়া জানিয়েছে, পরিবারের সম্মানহানির ভয়েই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কথা ভাবেনি সে। পরিবর্তে কেতনকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
৩১ মে প্রথমবার লোহাগড় যায় কেতন ও সিয়া। ৪ দিন পর ফের একবার একই ঐতিহাসিক দূর্গে যাওয়ার আবদার করেছিল সিয়া। কিন্তু কেতনের মায়ের কারণে সেই যাত্রা বাতিল হয়। এরপর ১৪ জুন ফের লোহাগড় যায় কেতন ও সিয়া। সেদিনও খাদে ফেলে দেওয়ার জন্য কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিল সিয়া। তবে একটি গাছকে আকড়ে ধরে প্রাণে বাঁচেন যুবক। তখন সিয়া ‘সাপ’, ‘সাপ’ বলে চিৎকার করতে থাকে এবং কেতনকে জড়িয়ে ধরে। ফলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়নি ওই যুবকের। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ১৮ জুন (খুনের দিন) লোহাগড় যাওয়ার আগে একটি ক্যাফেতে দেখা করেছিল সিয়া ও চেতন। সেখানে দীর্ঘক্ষণ খুনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিল তাঁরা। কোথয়ে কেতনকে ধাক্কা মারা হবে, তার ছক কষা হয়েছিল সেখানেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী হুডি পরে সিয়া ও কেতনকে অনুসরণ করেছিল চেতন। দু’জনে হাতের ইশায়া নাগাড়ে মতের আদানপ্রদানও করেছিল বলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত পুলিশ। সূত্রে খবর, ৩৩ ডিগ্রির গরমে হুডি পরার কারণেই প্রথম চেতনকে দেখে সন্দেহ হয়েছিল তদন্তকারীদের।
অন্যদিকে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সিয়ার গতিবিধি নিয়ে আগেই সন্দেহ দানা বেঁধেছিল কেতনের মনে। পরিবারকে সেকথা জানিয়েছিল সে। তবে সেকথা আমল দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি কেতনের বাবা জানিয়েছেন, সিয়া ও কেতনের বয়সের ফারাকের কারণে প্রাথমিকভাবে এই বিয়ে নিয়ে গররাজি ছিলেন তাঁরা। শেষপর্যন্ত সিয়ার পরিবারের জারিজুরিতেই বিয়ে পাকা করা হয়। জানা গিয়েছে, ২০ জুন সিয়ার জন্মদিন পালন করার জন্য মহাবালেশ্বরের একটি পাঁচতারা হোটেলের ৭০টি রুম বুক করা হয়েছিল।