Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কাচের মন্দিরের মা ত্রিনয়নী

কাচের মন্দিরের মা ত্রিনয়নী
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
গত শতাব্দীর ছয়ের দশক। সুদূর রাজস্থানের জয়পুর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে হুগলি নদীর তীরে এসে পৌঁছেছিল একটি সুন্দর নীল পাথর। ঠিকানাটা প্রাণকৃষ্ণ সাহা লেন। সেখানে চলছে একটি আশ্রম গড়ার কাজ। সেই শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমকে আজ মানুষ কাচের মন্দির নামেই চেনে। প্রতিষ্ঠাতা স্বামী সত্যানন্দদেব। রামকৃষ্ণদেব ও মা সারদার মূর্তি প্রতিষ্ঠার  জন্য জয়পুর থেকে শ্বেতপাথর আনিয়েছিলেন তিনি। তার সঙ্গেই এসেছিল নীল পাথরটি। স্বামী সত্যানন্দদেব চেয়েছিলেন তা দিয়ে একটি কালী প্রতিমা তৈরি করতে। কিন্তু চরণতলে শিব সমন্বিত প্রচলিত মূর্তি নয়, খোদাই করা হবে মায়ের কল্যাণী কন্যারূপ। কুমারী মূর্তি, কিন্তু চতুর্ভুজা! সেই কল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে এগিয়ে এলেন প্রখ্যাত ভাস্কর কালী পাল। নীল পাথর কেটে  তৈরি করলেন মাতৃপ্রতিমা।
Advertisement
প্রতিমাটি একদিক থেকে অনন্য। কারণ, মায়ের দক্ষিণ চরণের বৃদ্ধাঙ্গুলি ঈষৎ তোলা। ‘মণি-মন্দিরের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে লেখক অরুণ কুমার এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন— ‘মায়ের চরণের বৃদ্ধাঙ্গুলি নখের কান্তি এমন উজ্জ্বল রক্তবর্ণ যে, যখন তিনি পদক্ষেপ করবেন, তখন ধরণী তলে স্থলপদ্ম প্রস্ফুটিত করতে করতে চলে যাচ্ছেন বলে মনে হবে। মায়ের অঙ্গরাগটিও  সেভাবে করা হয়েছে।’ প্রতিমার নামকরণ হয়েছিল অভিনব প্রক্রিয়ায়। ভক্তদের কাছ থেকে কয়েকটি নাম চেয়েছিলেন সত্যানন্দদেব। সেগুলি কাগজে লিখে বিভিন্ন দেবদেবীর সামনে একটি পাত্রে রাখা হয়। তারপর তিনি চোখ বুজে সেই পাত্র থেকে একটি কাগজ তোলেন। সেই নামেই আজ পর্যন্ত পরিচিত সেই প্রতিমা, ‘ত্রিনয়নী মা’। সেই প্রস্তাবটি ছিল সন্ন্যাসিনী গীতাপুরী মায়ের।
১ নভেম্বর, ১৯৬৭। দীপাবলির দিন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হল ‘ত্রিনয়নী মা’কে। আশ্রমের তরফে স্বামী সত্যপ্রকাশানন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, এখানে বিশেষ বিশেষ তিথিতে মাকে বিভিন্ন রূপে সাজানো হয়ে থাকে। রামনবমীতে শ্রীরামচন্দ্র, দোলের দিন ষড়ভুজ মহাপ্রভু, দুর্গাপুজোয় দশভুজা দুর্গা, বুদ্ধ পূর্ণিমায় ভগবান বুদ্ধ, দশহরায় মা গঙ্গা, সরস্বতী পুজোয় সরস্বতী,       শিবরাত্রিতে শিব ইত্যাদি।
সম্পর্কিত সংবাদ