Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোচিং সেন্টারে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, পলাতক শিক্ষক গ্রেপ্তার

কোচিং সেন্টারে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, পলাতক শিক্ষক গ্রেপ্তার
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৭২ ঘণ্টা ধরে বন্ধুর বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেও লাভ কিছু হল না। কোচিং সেন্টারে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে অবশেষে পুলিসের জালে ধরা পড়ল ‘গুণধর’ শিক্ষক। মঙ্গলবার গভীর রাতে হাওড়ায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে গিরিশ পার্ক থানার পুলিস। ধৃতের নাম রোহিত পান্ডে। বুধবার তাঁকে আদালতে 
Advertisement
পেশ করা হলে বিচারক ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, শিব ঠাকুর লেনে একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে রোহিতের। সেখানেই বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বিষয় পড়ান তিনি। দশম শ্রেণির ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের পড়ার দিন সোমবার। অভিযোগ, রবিবার সকালে পড়ার জন্য ডাকা হয় ১৬ বছরের ওই কিশোরীকে। শনিবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে এই বার্তা দেওয়া হয়। শিক্ষকের বার্তা পেয়ে রবিবার সকালে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে যায় ছাত্রী। কিন্তু, সেখানে ব্যাচের আর কেউ ছিল না। ফাঁকা কোচিং সেন্টারে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান ছাত্রীর মা। নির্যাতিতা ছাত্রী জানিয়েছে, এর আগে কোচিং সেন্টারে আরও দু’জন ছাত্রীর সঙ্গে অভব্যতা ও অশালীন আচরণ করেছিলেন রোহিত পান্ডে। কিন্তু, সেই ঘটনায় থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। নির্যাতিতার দাবি, অন্যান্য ছাত্রীদের ভয় দেখাতেন রোহিত। বাড়িতে এসব কথা জানালে কোচিং সেন্টার থেকে বের করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হতো। কোচিং সেন্টারের অন্যান্য ছাত্রীদের দাবি, শিক্ষকের চরিত্র ভালো নয়। পড়ানোর ছলে ছাত্রীদের গায়ে হাত দিতেন তিনি। 
অভিযোগের ভিত্তিতে গিরিশ পার্ক থানার পুলিস শিব ঠাকুর লেনের ওই কোচিং সেন্টারে হানা দেয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। লালবাজার সূত্রে 
খবর, সোমবার থেকেই রোহিতের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিন মিনিটের জন্য মোবাইল খুলেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর লোকেশন পেয়ে যান তদন্তকারীরা। হাওড়ায় অভিযুক্তের এক বন্ধুর বাড়িতে হানা দেয় গিরিশ পার্ক থানার পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, আজ বৃহস্পতিবার বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নির্যাতিতা কিশোরীর গোপন জবানবন্দি দেওয়ার কথা। একইসঙ্গে, পুলিস ধৃতের মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষার জন্য আবেদন জমা দেবে আদালতের কাছে।
সম্পর্কিত সংবাদ