Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬

অসময়ের আঙুর চাষ আঁকড়ে বেঁচে কাশ্মীরের রেপোরা গ্রাম

কাশ্মীরের ফলের কথা বললেই প্রথম মনে আসে আপেলের কথা। কাশ্মীরি আপেলের সুখ্যাতি ভারতের গণ্ডি ছাপিয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও।

অসময়ের আঙুর চাষ আঁকড়ে বেঁচে কাশ্মীরের রেপোরা গ্রাম
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: কাশ্মীরের ফলের কথা বললেই প্রথম মনে আসে আপেলের কথা। কাশ্মীরি আপেলের সুখ্যাতি ভারতের গণ্ডি ছাপিয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও। কিন্তু তার মধ্যেই যেন ব্যতিক্রম মধ্য কাশ্মীরের গান্ধেরবাল জেলার রেপোরা গ্রাম। গোটা উপত্যকার বাসিন্দারা যেখানে আপেল চাষ করে থাকেন, সেখানে রেপোরা গ্রামের বাসিন্দারা আঁকড়ে রয়েছেন আঙুল চাষ। স্বাভাবিকভাবেই কাশ্মীরে আঙুর উত্পাদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই গ্রাম। সাহিবি, হুসেইনি ও থমসন সহ বিভিন্ন প্রজাতির আঙুর চাষ হয় রেপোরায়। ক্রমশ পর্যটকদের মধ্যেও এই গ্রামের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আঙুর বাগান দেখতে এবং টাটকা ফল কিনতে ভিড় করছেন অনেকেই। 

Advertisement

জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে গান্ধেরবাল জেলাজুড়েই সবচেয়ে বেশি আঙুর চাষ হয়। সরকারি হিসাব বলছে, এই জেলায় ২০৬ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আঙুর চাষ হয়। এর মধ্যে রেপোরাতেই রয়েছে ৮০ থেকে ৯০ হেক্টর আঙুর খেত।  রেপোরায় আগস্ট মাস থেকে আঙুর পাকতে শুরু করে, যা চলে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। কৃষিবিদরা জানিয়েছেন, ওই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সেভাবে আঙুর পাওয়া যায় না। আর সেই কারণেই লাভবান হচ্ছেন রেপোরার কৃষকরা। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘প্রিমিয়াম কোয়ালিটি’র একটি আঙুরের ওজন ধরা হয় ৪ থেকে ৫ গ্রাম। সেখানে রেপোরায় উত্পন্ন একটি আঙুরের ওজন হয় প্রায় ১২ গ্রাম।
মুজফফর খান নামে এক কৃষক জানালেন মহারাজা হরি সিংয়ের আমল থেকেই তাঁরা রেপোরায় আঙুর চাষ করে আসছেন। মহারাজার নিজের জমিতেও এই চাষ হত। বর্তমানে সেই জমি উদ্যান পালন দপ্তরের অধীনে রয়েছে। মুজফফর জানালেন, ওই গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দারই এখন আয়ের প্রধান মাধ্যম আঙুর চাষ। জাহাঙ্গির আহমেদ খান নামে আরও এক কৃষক জানিয়েছেন, উদ্যান পালন দপ্তর একটি আঙুর প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সেটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আরও সুবিধা পাবেন কৃষকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ