একটা কাশ্মিরী পশমিনা শাল প্রাণ বাঁচিয়েছিল নেপোলিয়নের! কিন্তু ফরাসি ‘বিপ্লবের সন্তান’ কি কোনওদিন ভারতে এসেছিলেন? না, কখনই নয়। তাহলে? যুগের পর যুগ ধরে কাশ্মীরি শিল্পীরা এই শাল তৈরি করতেন। মুঘল দরবারেও এই কাশ্মীরি শালের বিশেষ কদর ছিল। সেই সূত্রেই পারস্য, ওটোমান সাম্রাজ্য ও মিশরে প্রসার ঘটে কাশ্মীরি পশমিনা শালের। তখনও ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেননি নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। কিন্তু তাঁর তরবারির সামনে প্রায় গোটা ইউরোপ পদানত হয়েছিল। এই পর্বেই ১৭৯৮ সালে মিশর অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই কাশ্মীরের জগৎবিখ্যাত পশমিনা শাল হাতে এসেছিল তাঁর। আর ওই সুদৃশ্য শাল তিনি উপহার হিসেবে প্যারিসে স্ত্রী জোসেফাইনকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথমটা একটু নাক সিঁটকেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে এই বাহারি ও মহার্ঘ উপহারটি দারুণ পছন্দ হয়ে যায় জোসেফাইনের। তিনি ওই শালকেই তাঁর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট করে তুলেছিলেন। যে কোনও অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গী হয়ে উঠেছিল কাশ্মীরি শিল্পকর্ম। ক্রমেই তা ফরাসি অভিজাত মহলে ফ্যাশনের অন্যতম উপকরণ হয়ে ওঠে। ১৮১৪ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই শালের প্রতি টান অটুট ছিল ফরাসি-সাম্রাজ্ঞীর। শাল পরিহিতা জোসেফাইনের বেশ কিছু ছবিও রয়েছে। আর এই শালই একবার প্রাণরক্ষা করেছিল সস্ত্রীক নেপোলিয়নের। একদিন বড়দিনের উৎসবের প্রাক্কালে জোসেফাইনকে সঙ্গে নিয়ে একটি অপেরায় যাচ্ছিলেন নেপোলিয়ন। সেদিনই প্রথম ওই শাল ব্যবহার করেছিলেন জোসেফাইন। তাঁর কাশ্মীরি পশমিনা শাল নজর কাড়ে এক জেনারেলের। কিন্তু শালটির ভাঁজ সঠিক না থাকার কথা জানান তিনি। এরপর জোসেফাইনের অনুরোধে ওই জেনারেল শালের ভাঁজ ঠিক করতে শুরু করেন। এজন্য সময় লাগছিল। তাই নেপোলিয়ন নিজের শকটে কিছুটা এগিয়ে যান। আচমকাই দু’জনের শকটের মাঝে তীব্র বিস্ফোরণ হয়। সময়ের সামান্য হেরফেরে প্রাণে বেঁচে যান নেপোলিয়ন ও তাঁর স্ত্রী। জানা যায়, ১৮০০ সালের ২৪ নভেম্বরের এই ঘটনা ঘটেছিল।



