অর্ক দে, কলকাতা: খড়ের ছাউনি দেওয়া দুর্গা দালান, চারদিকে গ্রামীণ বা আদিকালের জীবনের নানা ছবি, ইনস্টলেশন, আর্ট ওয়ার্ক ফুটে উঠেছে মণ্ডপজুড়ে। আলো-আঁধারিতে উঠে এসেছে আদিম সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। উত্তর কলকাতার অন্যতম পুরানো এবং নামজাদা পুজো কাশী বোস লেন এবার ফিরছে আদিম যুগে!
গত বছর দুর্গাপুজোয় লীলা মজুমদারের ‘পাকদণ্ডী’কে থিম করে সাড়া ফেলেছিল কাশী বোস লেন। এবার তাদের থিম ‘আদিম— জীবনের আদিম ছন্দ’। মহারাষ্ট্রের ওয়ার্লি শিল্পের সাহায্যে দৈনন্দিন জীবনের সরলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ওয়ার্লি শিল্পকলা তৈরি হয়েছে পৃথিবী, মানুষ ও প্রকৃতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে থেকে। এই শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় দৈনন্দিন কার্যকলাপ, উৎসব, সংগীত, নৃত্য, বিভিন্ন কাজ এবং সামাজিক জীবকে। কাশী বোস লেনের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে সেই ‘আদিম’-এর জয়গান। লোহার শিট বা পাতকে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে রূপ দেওয়া হয়েছে ওয়ার্লি শিল্পের নানা নকশায়। সেখানে আদি যুগের গোরুর গাড়ি থেকে শুরু করে চাষাবাদ কিংবা গৃহস্থ মহিলার কাজকর্ম, সবটাই ফুটে উঠেছে লোহার পাতের নকশায়।
শৈল্পিক উপাদানগুলির মাধ্যমে মণ্ডপে এই ধারণাকে জীবন্ত করে তোলার দায়িত্বে শিল্পী অনির্বাণ প্যান্ডেলওয়ালা (দাস)। তিনি বলেন, পুজো কমিটির এবারের উপস্থাপনার মূল ভাবনা শিকড়ে ফেরা এবং জীবনের সরল দিকগুলির মধ্যে সৌন্দর্য্য খুঁজে বের করা। ঐতিহ্যকে শুধু আচার-অনুষ্ঠানে বেঁধে না রেখে, এই থিমটি অন্বেষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কীভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করছে এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা আদানপ্রদান করছে, ওয়ার্লি শিল্পের মাধ্যমে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপজুড়ে।
পুজোর উদ্যোক্তা সোমেন দত্ত বলেন, লোহার উপর লেজার কাটিং করে ডিজাইন করা হয়েছে। থ্রিডি এফেক্ট আসবে। তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে থাকছে মাতৃ প্রতিমা। তবে মা এখানে সাবেকি সাজে। ‘আদিম’-এর মাধ্যমে কাশী বোস লেন দর্শনার্থীদের কাছে জীবনের মৌলিক রূপের এক দৃশ্যগত ব্যাখ্যা তুলে ধরতে চায়, যেখানে ওয়ার্লি শিল্পের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী রীতির সঙ্গে দুর্গাপুজোর সমসাময়িক অভিজ্ঞতাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।



