বেঙ্গালুরু, ২৫ আগস্ট: কর্ণাটকে বেশ কয়েকটি বহুজাতিক অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারি অ্যাপে মানুষের খাওয়ার জন্য প্রকাশ্যেই দেদার বিক্রি হচ্ছিল বিষাক্ত ধুতুরা ফল ও বীজ। সেই অ্যাপগুলিকে চিহ্নিত করে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল কর্নাটক ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনিটি বহু ব্যাবহৃত অ্যাপের খাদ্য লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের ভিত্তিতে আগে থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে ধুতুরা ফল ও বীজের বিক্রি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল কর্নাটক খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তর। তদন্তে দেখা যায়, বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কোনো রকম বাধা, আইন না মেনেই প্রকাশ্যেই ধুতুরা ফল ও বীজ বিক্রি হচ্ছিল। আবার শুধু তাই নয় প্যাকেটের গায়ে খাদ্য লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন নম্বরও দেওয়া ছিল। দন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, ওই ধুতুরা ফল ও বীজগুলি গুদামে মজুত করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি ও বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ধুতুরা ফল ও বীজ বিষাক্ত। এগুলি মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই খাদ্য হিসেবে এই ধরনের জিনিস মজুত বা বিক্রি করা কোনওভাবেই অনুমোদিত নয় বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যেই সব ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে এগুলি বিক্রি হচ্ছিল সে সব সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, বেশ কিছু অ্যাপ থেকে কোনো রকম জবাবদিহি করা হয়নি। আবার কিছু সংস্থ্যা ইতিমধ্যেই অনলাইনে ধুতুরা ফলের বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে কিছু সংস্থার দেওয়া জবাব ও ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। খাদ্য দপ্তরের বক্তব্য, বিষাক্ত ধুতুরা ফল বা বীজকে খাদ্য হিসেবে মজুত রাখা, বিক্রি করা বা বিতরণ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সাময়িকভবে অভিযুক্ত সংস্থাগুলির খাদ্য লাইসেন্স পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে বলে জানায় তারা। শুনানির পর এবং সংস্থাগুলির জবাব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হতে পারে। একই সঙ্গে ওই প্ল্যাটফর্মগুলিতে ধুতুরা ফল ও বীজ সরবরাহকারী বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশনও অবিলম্বে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানুষের খাওয়ার জন্য ধুতুরা ফল বা বীজ বিক্রির সমস্ত অনলাইন লিস্টিং এবং বিজ্ঞাপন অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা বা নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে কর্নাটক খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তর।