Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেলে উন্নীত করার দাবি করিমপুরের বিধায়কের

এলাকার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের বেহাল পরিষেবা ও দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি এবার বিধানসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন করিমপুরের বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ।

গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেলে উন্নীত করার দাবি করিমপুরের বিধায়কের
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: এলাকার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের বেহাল পরিষেবা ও দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি এবার বিধানসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন করিমপুরের বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তবর্তী নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা এখনও সঠিকভাবে মিলছে না। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ,  হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। শয্যা সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় অনেক রোগীকেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হতে হয়। পর্যাপ্ত সাফাইকর্মী না থাকায় হাসপাতালের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। হাসপাতালের আইসিইউ থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনও বিকল হয়ে থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রামীণ হাসপাতালের উপর করিমপুরের পাশাপাশি পাশের মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন। এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে প্রায় ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং প্রায় ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অভিযোগ, হাসপাতালের আধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেখানে নিয়মিত সিজারিয়ান প্রসব হয় না। ২০০৯ সালে প্রথমবার সিজার পরিষেবা চালু হলেও পরবর্তী সময়ে একাধিকবার তা বন্ধ হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে এলেও জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে তাঁদের দূরের হাসপাতালে রেফার করতে হয়। সিজার বন্ধ থাকলে রোগীদের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের তেহট্ট মহকুমা হাসপাতাল, ৮৫ কিলোমিটার দূরের কৃষ্ণনগর অথবা প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের বহরমপুর-এর সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় রোগীদের বাইরে বেশি খরচ করে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এর ফলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি রোগী পরিবহণের ঝামেলাও বাড়ছে।

Advertisement

রোগী ও তাঁদের পরিবারের বড় অভিযোগ, রাতের ওষুধের ব্যবস্থা নিয়ে। করিমপুর বাজারের  অধিকাংশ ওষুধের দোকান রাত ১০টার পর বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, সিরিঞ্জ বা অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা ওষুধের বাইরে অতিরিক্ত কিছু জিনিস কিনতে হলেও রাতের বেলায় তা পাওয়া যায় না। এপ্রসঙ্গে বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সরকারের কাছে তুলে ধরা আমার দায়িত্ব। করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো ও পরিষেবার ঘাটতি বিবেচনা করে আমি এটিকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করার আবেদন জানিয়েছি। এতে এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও পরিকাঠামোগত ঘাটতির বিষয়টি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ