Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কল্যাণী এইমসে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়ে হাতাহাতি, জখম বিজেপি নেতা

চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়ায় কল্যাণী এইমসে। সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রথমে পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়।

কল্যাণী এইমসে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ  নিয়ে হাতাহাতি, জখম বিজেপি নেতা
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়ায় কল্যাণী এইমসে। সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রথমে পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তারপর তা হাতাহাতিতে গড়ায়। মারপিটে জখম হয়েছেন বিজেপির একজন যুবনেতাও। পরে গয়েশপুর ফাঁড়ির পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় কেন্দ্রের অধীন এই অত্যাধুনিক হাসপাতালের অস্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

‘হাউসকিপিং স্টাফ’ পদে নিয়োগ পাওয়া চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে এইমস হাসপাতালে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩০ জনকে অস্থায়ী কর্মী নেওয়া হয়। গত ৩০ জুলাই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এইমসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আসার কিছু আগেই ওই কর্মীদের নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকে স্থানীয় এক বিজেপি নেতার সুপারিশে সুযোগ পান বলে জানা গিয়েছে। পাঁচজনকে সুপারিশ’ করার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বিধায়ক অম্বিকা রায়। কিন্তু, তিন মাস কেটে গেলেও এখনও তাঁরা বেতন পাননি। এই অবস্থায় সম্প্রতি একই সংস্থার মাধ্যমে আবার নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ে তিন মাস আগে যোগ কর্মীদের মধ্যে। সোমবার নতুন কর্মীরা কাজে যোগ দিতে এলে পুরনো কর্মীরা আপত্তি জানান। সেই থেকেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
 পুরনো কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁরা বিজেপি কর্মী। দলের এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে কাজ পেয়েছেন। নতুন যাঁরা আসছেন, তাঁরাও  বিজেপি দলের লোকজন। কেউ স্থানীয় নন।  স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে পরিস্থিতি জটিল হলে কয়েকজন বিজেপি নেতা হাসপাতালে যান। খবর পেয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান দলের কল্যাণী মণ্ডল-২ এর যুব সভাপতি মধুসূদন দাস। অভিযোগ, সেই সময় কেউ কেউ তাঁর উপর চড়াও হয়। 
অনেকেরই দাবি, যুব সভাপতির উপর হামলাকারীরা নদীয়ার অন্য এক বিজেপি বিধায়কের ঘনিষ্ঠ। প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীরা বিষয়টি সামাল দিলেও, পরে হাসপাতালের বাইরে বেরনোর সময় আবার হামলা করা হয় বিজেপি যুব নেতার উপর। তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি কল্যাণী এইমসেই চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 
যদিও এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং দিতে নারাজ বিধায়ক অম্বিকা রায়। তিনি বলেন, আমার পরিচিত অনেকে কাজ পেয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। সমস্যা হয়েছে কাজ করার পরও বেতন না পাওয়ায় এবং নতুন কর্মী নেওয়ায়। কারও কাজ কেড়ে না নিয়ে নতুন নিয়োগ হোক। কারণ এতদিন যারা ছিলেন তাঁরা বেতন পাওয়ার দাবিদার। আমি এইমস কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানিয়েছি। 
এবিষয়ে জানার জন্য এইমস হাসপাতালের জনসংযোগ আধিকারিক সুকান্ত সরকারকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তাঁর ফোনে পাঠানো মেসেজের উত্তরে জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ বলবে।’ পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ