ন’মাস মহাকাশে কাটিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। নভশ্চরের প্রত্যাবর্তনে আনন্দে মেতে উঠেছে ভারত তথা গোটা বিশ্ব। বাজি ফাটিয়ে উদযাপন করেছে গুজরাতের মেহসানার ঝুলাসানা গ্রাম। সুনীতাকে ঘিরে এই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই এক ভারতীয় নভশ্চরের কথা যেন আরও বেশি মনে পড়ছে। তিনি কল্পনা চাওলা। যাবতীয় উৎকণ্ঠা কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন সুনীতা। কল্পনার ঘরে ফেরার যাত্রা শেষ হয়ে গিয়েছিল মহাশূন্যে। অবতরণের আগেই মৃত্যু হয়েছিল কলম্বিয়া (এসটিএস ১০৭) মহাকাশযানে থাকা সাত নভশ্চরের। ১৭ মার্চ ছিল কল্পনার জন্মদিন। তার দু’দিন পর বুধবার ভোররাতে মেক্সিকো উপসাগরে সফল অবতরণ করেন সুনীতারা। ১৭ ঘণ্টার এই যাত্রা খুব একটা সহজ ছিল না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সময় মহাকাশযানের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার কিমি। বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মহাকাশযান। ক্যাপসুলে থাকা বিশেষ তাপরোধক উপাদান এই পর্বে সুনীতাদের রক্ষা করে। ২২ বছর আগে কল্পনার ভাগ্য এতটা ভালো ছিল না। ২০০৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। কল্পনা সহ সাতজনকে নিয়ে পৃথিবীতে ফিরছিল কলম্বিয়া মহাকাশযান। প্রথমে সব ঠিক ছিল। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকতেই এক লহমায় সবকিছু শেষ হয়ে যায়। টেক্সাসের উপর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় কলম্বিয়া। পরে নাসার তদন্তে জানা যায়, উৎক্ষেপণের ৮২ সেকেন্ড পরে কলম্বিয়ার ‘বাইপড র্যাম্প’ থেকে ফোমের টুকরো পড়েছিল। শাটলের বাইরে থাকা ট্যাঙ্কের অংশ ছিল সেটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, মহাকাশযানের বাঁদিকের ডানায় ফুটো ছিল। সেই ছিদ্র দিয়েই বায়ুমণ্ডলের বাতাস প্রবেশ করেছিল। এর ফলেই টুকরো টুকরো হয়ে যায় কল্পনাদের যান। অবতরণের মাত্র ১৬ মিনিট আগেই শেষ হয়ে যায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মহিলা মহাকাশচারীর জীবন।



