বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দির বললে চট করেই বলে দেওয়া যায় যে সেটি কোথায়। শহরের একেবারে কাছে গুসকরা যাওয়ার হাইওয়ের পাশে যে শিবমন্দির, সেটিই তো ১০৮ মন্দির। কথাটা ঠিকই, তবে শহর বাদ দিলে গোটা বর্ধমান জেলায় রয়েছে শিবের অজস্র আরাধনা স্থল। রয়েছে ১০৮ শিবমন্দিরও। অম্বিকা কালনার রাজবাড়িতে প্রবেশপথের উল্টোদিকেই রয়েছে মন্দিরের দরজা। লোকমুখে এই মন্দির ‘১০৮ শিবমন্দির’ বলে পরিচিতি পেলেও আসলে এখানে রয়েছে ১০৯টি শিবমন্দির। যে কারণে তা নবকৈলাস মন্দির নামেও পরিচিত। মন্দিরের প্রবেশদ্বারে যে প্রতিষ্ঠালিপি রয়েছে, সেখানেই বিষয়টি স্পষ্ট করা আছে। ১৮০৯ সালে অম্বিকা নগরে শিবভক্ত রাজা শ্রীতেজশ্চন্দ্র দেবাদিদেবের এই নবকৈলাস রূপকে প্রতিষ্ঠা করেন। ১০৯ মন্দিরের মধ্যে দু’টি এককেন্দ্রিক। সেকারণে সেটিকে একটি মন্দির বলেই ধরে নিয়েছেন স্থানীয়রা। এখানে দুই রঙের শিবলিঙ্গ রয়েছে। একটি কালো এবং অপরটি সাদা। শুভ্রবর্ণের শিবলিঙ্গ ভগবান সদাশিবের প্রতীক আর কৃষ্ণবর্ণের শিবলিঙ্গগুলি রুদ্রের প্রতীক। গোটা এলাকাটি দেখতে একটি বৃত্তের মতো। তার ভিতরে যে মন্দিরগুলি রয়েছে, সেগুলি আটচালা। চারচালের উপরে আরও একটি চারচালা। আবার ১০৯ নম্বর মন্দিরের উঁচু বেদির উপর রয়েছে পঞ্চরত্ন মন্দির। এর ছাদের চারকোণে চারটি চূড়া এবং মাঝখানে একটি বড় চূড়া। এর নাম জলেশ্বর মন্দির। জলেশ্বর শিবমন্দিরের মতো আর একটি পঞ্চরত্ন মন্দির রয়েছে মূল মন্দিরের বাইরে। এর নাম রত্নেশ্বর মন্দির। নবকৈলাস, জলেশ্বর এবং রত্নেশ্বর। সব মন্দিরের শিবলিঙ্গই নিত্যপূজা পান। শিবরাত্রির সময় বর্ধমান জেলার পাশাপাশি রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে বহু মানুষ জল ঢালার জন্য এই মন্দিরে আসেন। এই সময়ে কালনার অম্বিকা নগর যেন নবরূপে আত্মপ্রকাশ করে।



