সংবাদদাতা, কালনা: কালনায় বেহুলা নদীর গতিপথ আজ অবরুদ্ধ। কচুরিপানায় প্রায় মজতে বসেছে নদী। এদিকে বর্ষায় নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জলস্তর বৃদ্ধিতে দুই পাড়ে বানভাসির আশঙ্কায় বাসিন্দারা। ক্ষতির আশঙ্কায় নদীর তীরবর্তী চাষের জমির মালিকরা। বাম আমল থেকে তৃণমূলের আমলে নদী সংস্কারের নামে কাজ হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। রাজ্যে পালা বদলে বিজেপি সরকার আসায় সংস্কারের আশায় রয়েছেন নদীর পাড়ের বাসিন্দারা।
কালনা মহকুমা জুড়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ বেহুলা নদীর গতিপথ। এই গতিপথে রয়েছে কালনা থানার কালনা-১ ও ২ ব্লকের হাটকালনা, কৃষ্ণদেবপুর, কল্যানপুর, পিন্ডিরা প্রভৃতি পঞ্চায়েতের মুক্তারপুর, ধর্মডাঙা, কেলেনই, কুশোডাঙা, হাটগাছা সহ একাধিক গ্রাম। বেহুলা নদীর জলে মহকুমার বিস্তীর্ণ নদী পাড়ের চাষের জমির সেচের কাজে লাগত। তেমনি এই নদী মৎস্যজীবীদের আয়ের উৎস ছিল। কিন্তু বাম আমল থেকে এই নদীর গতিপথে কচুরিপানা জমে জলধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে। তৃণমূল সরকার আসার পর কালনা- ১ ও ২ ব্লকের বেশ কিছু অংশে নদী সংস্কারের কাজ হলেও নদী পাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারের নামে লক্ষ লক্ষ সরকারি টাকা তৃণমূল নেতাদের পকেটে গিয়েছে। নদীর সংস্কারের কাজ কিছুই হয়নি। কচুরিপানা জমে গিয়ে নদীর বেহাল অবস্থা। ফলে, চাষের সেচের জলের জোগান যেমন কমেছে। মৎস্যজীবীরা হারিয়েছেন তাদের রুজি রোজগার।
অন্যদিকে বর্ষায় আবার অন্য চিত্র। বর্ষায় নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেলে দুই পাড়ের জনবসতি ও চাষের জমি প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগ ও বানভাসির আশঙ্কা দেখা দেয়। নদী সংস্কার ঠিকমতো না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।
এলাকার বাসিন্দা সদানন্দ মণ্ডল স্বপন বৈরাগী বলেন, বেহুলা নদী আজ বিলুপ্তির পথে। কুরিপানা জমে প্রায় মজে যাওয়ার অবস্থা নদীর গতিপথ। বর্ষায় নদীর জল ধারণ ক্ষমতা না থাকায় নদী পাড়ের জনবসতি ও চাষের জমি প্লাবিত হয়ে ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত নদী সংস্কারের কাজ শুরু হোক। নদী সংস্কার হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। মুক্তারপুরের বাসিন্দা বিজেপির জেলা সহ সভাপতি ধনঞ্জয় হালদার বলেন, তৃণমূলের আমলে নদী সংস্কারের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নয়ছয় হয়েছে। আমরা বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। নদী সংস্কার হলে জল ধারণ ক্ষমতা বাড়বে। একদিকে যেমন বর্ষায় জলস্ফীতিতে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের বানভাসি হতে হবে না অন্যদিকে খরার সময় নদীর জল চাষের কাজে লাগবে। মৎস্যজীবীদের আয় বাড়বে।-নিজস্ব চিত্র