


সংবাদদাতা, কল্যাণী: আজ কল্যানীতে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিন জেলার পর্যালোচনা প্রশাসনিক বৈঠকের তালিকায় ছিল নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার নাম। আজ কল্যানীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বারাসাত লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর রহমান, স্বরূপনগরের বিধায়ক বিনা মন্ডল, হারোয়ার বিধায়ক মোহাম্মদ আব্দুল মাতিন।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই উপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। আর এই জল্পনার নেপথ্যে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেওয়া। তার পরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তৃণমূলের এই সাংসদ। এর পর আগুনে ঘি ঢালে তার সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট। পদ খুঁইয়ে তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ এই পোস্টের পরেই নীচে কমেন্টে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এই সবকিছুর পর আজ শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি আরো জল্পনার সৃষ্টি করে। প্রশ্ন ওঠে তবে কি তিনি এবার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাবেন? তবে এই বিষয় নিয়ে কোনো রকম মুখ খোলেননি তিনি। তিনি জানান, 'বৈঠকে যোগ দেওয়ার সঙ্গে কোনও দলীয় যোগাযোগ নেই, এটি প্রশাসনিক কর্মসূচি, আমরা চিরকালই প্রশাসনিক বৈঠকে চিরকালই আসি। প্রশাসনটা সবার'। সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই এবার সব পক্ষকে বৈঠকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপি সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কাকলি-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদেরও ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।