Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক হচ্ছেন কাজল-কেষ্ট! অনুব্রতর বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের বৈঠক ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। কী হতে পারে এর প্রভাব? বিস্তারিত পড়ুন।

এক হচ্ছেন কাজল-কেষ্ট! অনুব্রতর বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বীরভূমের রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অনুব্রত মণ্ডল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে জেলা সভাপতির পদে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তাঁকে নিয়ে চর্চা চলছে। এরই মধ্যে সোমবার রাতে বোলপুরের তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে কাজল শেখ ঘনিষ্ঠ নানুরের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি এবং সিউড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর বৈঠক হয়। যা নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা ছড়ায়, ঋতব্রত তৃণমূলের সুবাদে এবার কি দ্বন্দ্ব ভুলে এক হয়েই কাজ করবেন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী! 

Advertisement

সম্প্রতি নতুন তৃণমূলে বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান অনুব্রত মণ্ডল। দীর্ঘদিন পর পুরনো দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার পর থেকেই জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন তিনি। বিভিন্ন ব্লক ও অঞ্চলস্তরের নেতৃত্বও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। সোমবার রাতেও বোলপুরের জেলা কার্যালয়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে বৈঠক করেন বিধান মাঝি ও বিকাশ রায়চৌধুরী। যদিও ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কর্মসূচি এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েই মূলত আলোচনা হয় বলে দাবি করা হয়। এদিন বৈঠক শেষে বিধান মাঝি বলেন, অনুব্রত মণ্ডল আগে জেলার কোর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। এখন তিনি জেলা সভাপতি। তাই সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই এসেছিলাম। পাশাপাশি ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিধান মাঝি বলেন, আমি তৃণমূলের বিধায়ক। দলের সঙ্গেই আছি। তাঁর সংযোজন, কাজলদার সঙ্গেও আছি, অনুব্রতদার সঙ্গেও আছি। এখন আলাদা করে কাজল-কেষ্ট বললে হবে না। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জেলার স্বার্থে এবং দলের স্বার্থেই ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। এই বৈঠকের কথা কাজল শেখ জানেন কি না, সেই প্রশ্নে বিধায়কের জবাব, জানবেন নিশ্চয়। না জানলেও আপনাদের মাধ্যমেই জেনে যাবেন।
অন্যদিকে, বৈঠক শেষে বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, বীরভূমে সংগঠনের দুর্বলতার অন্যতম কারণ ছিল অনুব্রত মণ্ডলের হাতে জেলা সভাপতির দায়িত্ব না থাকা। আমি আগেও নেতৃত্বের কাছে অনুব্রতকে সেই দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। তাঁর দাবি, অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্বেই জেলার সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
প্রসঙ্গত, কেষ্ট নতুন তৃণমূলে নাম লিখিয়ে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বিজেপির উন্নয়নের জন্য ভাল কাজ করছেন, এমন মন্তব্যও করেন। সেই বক্তব্য ঘিরেও জোর চর্চা শুরু হয়। এবার সেই আবহেই কাজল ঘনিষ্ঠ বিধায়কের অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে সাক্ষাৎ বীরভূমের তৃণমূল শিবিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেষ্ট-কাজল শিবিরের দূরত্ব কি কমছে, নাকি শুধুই সাংগঠনিক বৈঠক, তা এখনই স্পষ্ট নয়। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। এই নিয়ে জেলার বিজেপির মুখপাত্র সুমিত মণ্ডল বলেন, তৃণমূল এখন আর পার্টি নয়, একটা সার্কাস পার্টি হয়ে গিয়েছে। তাই মানুষ দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রকাশ করেছে। যে যার ঘরেই যাক না কেন, আগামী দিনে এই পার্টিটা আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এবিষয়ে অনুব্রতবাবু বলেন, কোনও মন্তব্য করব না। যদিও কাজল শেখ বলেন, বিধান আমাকে জানিয়েই গিয়েছে। আমি এদিন কলকাতায় ছিলাম। জেলায় থাকলে দু’জনে একসঙ্গে যেতাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ