প্রীতেশ বসু, বালি: কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ, উন্নত নিকাশির মতো নাগরিক পরিষেবা—এবারের ভোটে বালি বিধানসভায় এসবই অন্যতম ইস্যু। ডান-বাম সব পক্ষই প্রচারে ‘জঞ্জাল মুক্ত বালি’র প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। মানুষের এই চাহিদার কথা ভালোভাবেই জানেন বালির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৈলাস মিশ্র। তাই প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা হতেই তিনি নিজেই এলাকা জঞ্জালমুক্ত করার কাজে নেমে পড়েন। ইতিমধ্যে ভ্যাটমুক্ত বালি বিধানসভা গড়তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০ বিঘা খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে লিলুয়ায়। তবে শুধু ‘ক্লিন বালি, গ্রিন বালি’ নয়, গঙ্গাপাড়ের এই বিধানসভাকে ‘মডেল’ করে তুলতে তৃণমূলের হাতিয়ার আরও ২৫টি উদ্যোগ। এই সমস্ত অঙ্গীকার নিয়ে শীঘ্রই তৃণমূল জনসমক্ষে আনতে চলেছে তাদের ‘স্পেশাল ২৬’ শীর্ষক ইস্তাহার। সূত্রের খবর, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, যুবকল্যাণ সহ একাধিক ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে এই অঙ্গীকার পত্র তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পুরভোট না হওয়া বালি পুরসভা এলাকা এই বিধানসভার অন্তর্গত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন রয়েছে, শুধু প্রতিশ্রুতিতেই কি বালির বৈতরণী পার করতে পারবে রাজ্যের শাসক দল? কী বলছে বালি, বেলুড়া, লিলুয়ার আম জনতা? নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বালির এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিজেপির প্রার্থীকে কোনোদিন এলাকায় দেখিনি। সিপিএম প্রার্থী বর্ষীয়ান নেতা। তবে তৃণমূল এবার যাঁকে প্রার্থী করেছে, তাঁকে মাঝেমধ্যেই এলাকায় দেখেছি। জনসংযোগ আছে।’ বিজেপির প্রার্থী যে বালির নয়, সেকথা মনে করিয়ে দিলেন আরেক স্থানীয় বাসিন্দা। একটু থেমে গিয়ে তিনি বললেন, ‘কৈলাস মনে হচ্ছে ওয়াকওভার পাবে।’ জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ তৃণমূল প্রার্থী। গত লোকসভার নিরিখে এই বিধানসভায় ৬,৪৯২ ভোটের ‘লিড’ থাকলেও ১০টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ৬ মাস আগে থেকেই সেই সমস্ত বুথের কর্মীদের নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। কৈলাসের প্রত্যয়ী বার্তা, ‘এবার প্রতিটি বুথেই জিতব আমরা।’



