নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের প্রতি তার বরাবরের প্রেম। ওই দেশেই বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে থাকতে চেয়েছিল ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতিরানি মালহোত্রা। তদন্তে সূত্রে এবার নয়া তথ্য উঠে এল। জানা গিয়েছে, আলি হাসান নামে আইএসআইয়ের এক এজেন্টের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপে নিয়মিত কথা বলত জ্যোতি। এরকমই কথোপকথনের সময় একবার আলিকে বলে, ‘পাকিস্তানে বিয়ে করতে চাই’। এর জন্য সাহায্যও চেয়েছিল জ্যোতি। কোথাও যেন পাকিস্তানের প্রতি তার এক অদ্ভুত টান তৈরি হয়েছিল। আর সেই দুর্বলতা থেকেই শত্রু দেশের হাতে একের পর এক তথ্য তুলে দিয়েছিল সে। হোয়াটস অ্যাপে দু’জনের মধ্যে একাধিক সাংকেতিক বার্তার আদানপ্রদানও হয়। সেগুলি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এমনকী অপারেশন সিন্দুরের সময় দেশের অন্দরের নানা তথ্য পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিল সে। ভারত-পাক যুদ্ধ আবহে দেশের কোন কোন জায়গায় ব্ল্যাকআউট করা হয়েছিল, সেই সম্পর্কিত তথ্যও ফাঁস করেছিল।
ইতিমধ্যেই জ্যোতির সঙ্গে দানিশ সহ বেশ কয়েকজনের যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছে। আর তা নিজের মুখেই স্বীকার করেছে জ্যোতি। জেরার মুখে ট্রাভেল ভ্লগারের বক্তব্য, ‘পাকিস্তানের হাতে দেশের গোপন তথ্য তুলে দিয়েছি। ২০২৩ সালে পাকিস্তান যাওয়ার ভিসার আবেদন জানাতে দিল্লিতে পাকিস্তানের হাই কমিশনে গিয়েছিলাম। সেখানেই এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশের সঙ্গে আলাপ হয়। পরে ফোন নম্বর আদান প্রদান হয়। তারপর থেকেই আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পরে দু’বার পাকিস্তান গিয়েছি। সেখানেই দানিশের পরিচিত আইএসআই এজেন্ট আলি হাসানের সঙ্গে আলাপ হয়।’
জ্যোতির কথায়, পাকিস্তানে তার থাকার ও ঘোরার বন্দোবস্ত করেছিল আলি হাসান। আলিই তাকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে আলাপ করিয়েছিল। সেইসূত্রে শাকির ও রানা শাহবাজের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। জ্যোতির চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেরও খোঁজ মিলেছে। একটিতে আবার দুবাই থেকে টাকা লেনদেন করা হয়েছে বলে সূত্রে খবর। এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লনেদেনের দিকে এখন নজর তদন্তকারীদের। কারণ এই লাস্যময়ী যুবতী ভ্লগারের খরচ ও আয়ের মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন না গোয়েন্দারা। তাই কোন পথে জ্যোতি রোজগার করছিল, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তাঁরা।