নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গালভরা ঢক্কানিনাদই সার। বর্ষায় প্রতিবার নিয়ম করেই ব্যর্থ হচ্ছে দিল্লির বিজেপি সরকার! দেশের রাজধানী শহরের নিকাশি পরিকাঠামো রয়ে গিয়েছে সেই তিমিরেই। আদতে শিয়ালকে কুমির ছানা দেখানোর মতো বর্ষায় বারবার মিন্টো ব্রিজের ছবি সামনে নিয়ে আসছে দিল্লির বিজেপি সরকার। এই সেই মিন্টো ব্রিজ, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও জল জমে যেত। আর সেই জমা জলে এমনকি অর্ধেক ডুবে যেত যাত্রীবাহী বাসও। দিল্লিতে বিজেপি সরকার আসার পর ওই এলাকায় জল যন্ত্রণার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগের মতো আর সেখানে জল জমে না। এর ফলে বর্ষার মোকাবিলায় তারা যে রীতিমতো সফল, তা বোঝানোর উদ্দেশ্যে বারবার ওই মিন্টো ব্রিজের ছবি বর্ষার সময় প্রকাশ করে দিল্লির বিজেপি সরকার। কিন্তু শহরের অন্যত্র যে জল যন্ত্রণার কিছুমাত্র উন্নতি হয়নি, তা দেখেও না দেখার ভান করছে দিল্লি সরকার। সোমবার কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ফের দেশের রাজধানী শহরের অসহনীয় জল-ছবি সামনে এসেছে। মিন্টো ব্রিজের অদূরেই রয়েছে দিল্লির বিখ্যাত কনট প্লেস। এটি আদতে দিল্লির ধর্মতলা!
সোমবার কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই সেই কনট প্লেস এলাকায় থইথই করছে জল। এমনকি ওই এলাকায় যেসব পার্কিং প্লেস রয়েছে, তার বড়ো অংশেই এদিন হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। সঙ্গম বিহার, অশোক বিহার, দুর্গাবিহার থেকে দ্বারকা মোড় - এদিন জলযন্ত্রণার ছবি সর্বত্র ফুটে উঠেছে। কোথাও কোমর সমান জল পেরিয়ে স্কুলে যেতে দেখা গিয়েছে পড়ুয়াদের। কোথাও আবার রাস্তার কোমর সমান জলে সাঁতার কেটেছে খুদেরা।
সবমিলিয়ে সোমবার চরম নাকাল হতে হয়েছে শহরবাসীকে। প্রবল বৃষ্টির কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে সারা শহরে। বৃষ্টির কারণে দিল্লিতে ব্যাহত হয়েছে বিমান পরিষেবাও। তবে শুধুমাত্র দিল্লিতেই নয়। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে প্রবল বৃষ্টির কারণে একইরকম ভোগান্তি হয়েছে সংলগ্ন এনসিআর এলাকার মানুষকে। গাজিয়াবাদেও নাজেহাল হয়েছে সাধারণ মানুষ। হরিয়ানার গুরুগ্রামেও প্রায় সর্বত্র জল জমে গিয়েছে। এর ফলে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। জল এত বেশি পরিমাণে জমেছে যে, আজ, মঙ্গলবার স্কুল এবং অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও অনলাইন ক্লাসের সুপারিশ করেছে জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ।