Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুয়ার ঠেক থেকে ওঠা টাকা দিয়েই মহারাজ কিনতেন নিষিদ্ধ সিরাপ

জুয়ার ঠেক থেকে ওঠা টাকা দিয়েই মহারাজ কিনতেন নিষিদ্ধ সিরাপ
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্বপ্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার হল বাঙ্কার কাণ্ডের সাধু মহারাজের অন্যতম শাগরেদ প্রসেনজিৎ হালদার। বুধবার রাতে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুট্টিখালি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। সেইসঙ্গে আরও আটজনকে জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের চোদ্দ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, ধৃতদের অধিকাংশের সঙ্গেই সাধু মহারাজের গ্যাঙের যোগ রয়েছে। কেউ কাশির সিরাপের ক্যারিয়ারের কাজ করে। কেউ আবার তা দেখভালের কাজ করে। জুয়ার বোর্ড থেকে ওঠা টাকা সরাসরি পৌঁছে যায় মহারাজের কাছে। সেই টাকা দিয়েই কেনা হয় কাশির সিরাপ। শাগরেদদের মাধ্যমে সীমান্ত এনে তা মজুত করা হয়। 
Advertisement
কৃষ্ণগঞ্জের ভাজনঘাট, পুট্টিখালি, ধরমপুর এসব এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, জুয়ার বোর্ড চালানো পাচার ব্যবসার অন্যতম হাতিয়ার। এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও সরাসরি যুক্ত। তাদের মধ্যে অনেকে আবার দলের পদাধিকারীও। তাদের হাত মাথায় নিয়েই জুয়ার বোর্ড চালায় মাদক গ্যাংয়ের সদস্যরা।‌ গ্রামবাসীদের কথায়, বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন জায়গায় ছোটবড় জুয়ার বোর্ড চালু হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে রাত হলেই তাঁবু খাটিয়ে জুয়ার আসর বসে। আশেপাশের গ্রামের ছেলেরা সেখানে জড়ো হয়,জুয়ার ঠেকে টাকা ওড়ায়‌।‌ 
গ্রামবাসীদের কথায়,জুয়া খেলতে আসা অল্পবয়সি ছেলেদের ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জুয়ার নেশায় সামান্য টাকার বিনিময়েই তারা রাজি হয়েযায়।জানাগিয়েছে,জুয়াতে টাকা লাগিয়ে যারালাগাতারহারে,তাদেরইএইটোপদেয়প্রসেনজিতরা।এইভাবেইসীমান্তজুড়েমাদকগ্যাংতৈরিকরেমহারাজওতারলোকজন।
সম্প্রতি যে জুয়ার ঠেক থেকে প্রসেনজিৎ হালদার গ্রেপ্তার হয়, সেখানে থেকে ৬৮ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। সেই সঙ্গেতিনটি  বাইকও। গ্রামবাসীদের কথায়, ধৃত প্রসেনজিতই নাকি বাঙ্কার তৈরিতে মহারাজকে সাহায্যকরেছিল। শুধু তাই নয়, কাশির সিরাপ সীমান্ত নিয়ে আসা, সেখানে গোপনে মজুত করা এবং অর্ডার এলেই তা ওপারে পাচার করা,এই গোটা কর্মকাণ্ডের ব্লুপ্রিন্ট জুয়ার ঠেকেই তৈরি করে প্রসেনজিতরা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জুয়ার ঠেকে থেকে ধৃতদের নাম সাবির মিস্ত্রি, প্রবীর বিশ্বাস, লাল্টু দাস, মনোরঞ্জন বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ গাইন, জসিম মণ্ডল, সুজিত মণ্ডল এবং অমিত মল্লিক। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, ‘কৃষ্ণগঞ্জেঅভিযান চালিয়ে একটি জুয়ার ঠেক ভাঙা হয়েছে।আমরা সব দিক নজরে রেখেছি।’ 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ