Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতার রেকর্ড একা ভাঙল ‘যোধপুর পার্ক’

২৪ ঘণ্টায় ৩৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি! কোনও একটি অঞ্চলে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নিরিখে বিগত সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেল যোধপুর পার্ক।

কলকাতার রেকর্ড একা ভাঙল ‘যোধপুর পার্ক’
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি! কোনও একটি অঞ্চলে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নিরিখে বিগত সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেল যোধপুর পার্ক। শুধু কোনও একটি জোন নয়, সারা কলকাতার নিরিখেও এই বৃষ্টিপাত নয়া রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে দাবি কলকাতা পুরসভার। সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত এই পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে যোধপুর পার্ক পাম্পিং স্টেশন জোনে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, ১৯৫৮ সালের ২১ জুলাই কলকাতায় একদিনে ২৬৬.২ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। জুলাই মাসে শহরে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির এটাই সর্বকালীন রেকর্ড। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, সেই রেকর্ড পিছনে চলে গিয়েছে সোম ও মঙ্গলবারের টানা বৃষ্টিতে। যদিও আবহাওয়া অফিসের দাবি, এই তথ্য আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। 

Advertisement

অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি বৃষ্টি হওয়ার ফলে যোধপুর পার্ক এলাকা সহ কলকাতার বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত কখনও ইলশে গুঁড়ি, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি চলে। অঝোর ধারার বিরাম ছিল না। বিকেলের দিকে বৃষ্টি থামলে জল নামতে শুরু করে। কোথাও কোথাও জল নামতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় জল জমে থাকার কারণে কাজের দিনে নাজেহাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিকেলের পর বড় রাস্তাগুলি জলমুক্ত হলেও অলিগলি ও পাড়ার ভিতরের রাস্তা থেকে জল নামতে নামতে মধ্যরাত হয়ে যায়। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার অনেক রাস্তা জলমগ্ন থাকে রাত পর্যন্ত।
একদিকে টানা ভারী বৃষ্টি, সেই সঙ্গে গঙ্গায় ভরা কোটালের জোয়ার—মূলত এই দুই কারণে অনেক জায়গায় জল নামতে দেরি হয়েছে বলে দাবি পুরসভার নিকাশি বিভাগের কর্তাদের। এদিন জোয়ারের ফলে গঙ্গার জলস্তর প্রায় সাড়ে ১৬ ফুট উঠেছিল। পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন শহরে গড়ে বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ৮০-৮১ মিমি। এরপরও বিকেলের মধ্যেই শহরে বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে জমা জল নামাতে পেরেছে পুরসভা। উত্তর ও মধ্য কলকাতার আমাহার্স্ট স্ট্রিট, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, মহাত্মা গান্ধী রোড এবং সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনের সামনের অংশ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, স্ট্র্যান্ড রোড, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিট, রাজা রামমোহন রায় সরণিতে জল জমেছিল। দক্ষিণ কলকাতায় টালিগঞ্জ মেট্রোর সামনে, রাসবিহারী মোড়, হরিশ মুখার্জি রোড, হাজরা, যাদবপুর থানা থেকে অভিষিক্তাগামী রাস্তায় গাঙ্গুলিপুকুর, সাঁফুইপাড়া, শরৎ পার্ক, পূর্বাচল, মণ্ডলপাড়া, হাইল্যান্ড পার্ক, ঢাকুরিয়া, বালিগঞ্জ, এক্সাইড, পার্ক স্ট্রিট, যোধপুর পার্ক, লেক গার্ডেন্স, কসবা সহ বিস্তীর্ণ অংশে বিভিন্ন জায়গায় জল জমেছিল। 
পুরসভার তথ্য বলছে, এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে যোধপুর পার্ক পাম্পিং স্টেশন জোনে। সোমবার রাত ১টা থেকে মঙ্গলবার বেলা ৩টে পর্যন্ত সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৯১ মিমি। নিকাশি বিভাগের বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার হিসেব ধরলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫৫ মিমি, যা নজিরবিহীন। এরপরই বেশি বৃষ্টি হয়েছে পামারবাজার পাম্পিং স্টেশন জোনে (১০৩ মিমি)। পুরসভার নিকাশি বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং এদিন পামারবাজার পাম্পিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সব রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ার জন্যই জল নামাতে অনেকটা সময় লেগেছে। কর্মীরা খুব ভালো কাজ করেছেন।’  এই দুর্যোগের মধ্যে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, বিবেকানন্দ রোড, তিলজলা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় আট থেকে দশটি গাছ পড়ে গিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ