Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মাদ্রাসা মামলা: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকলে বাতিল হতে পারে চাকরি, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

যোগ্য হোন বা বহুদিন চাকরি করুন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণ হলে চাকরি খোয়াতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার রায় রিজার্ভ রাখার আগে বৃহস্পতিবার শুনানির পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত।

মাদ্রাসা মামলা: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকলে বাতিল  হতে পারে চাকরি, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
  • ২২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যোগ্য হোন বা বহুদিন চাকরি করুন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণ হলে চাকরি খোয়াতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার রায় রিজার্ভ রাখার আগে বৃহস্পতিবার শুনানির পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহকে পাশে রেখে শুনানিতে বারবার চাকরিরত শিক্ষকদের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, নিয়োগের বিজ্ঞাপন থেকে পদ খালি, পরীক্ষা, যোগ্যতা মেনেই কি আপনারা চাকরি পেয়েছেন? কোন মাদ্রাসায় কে কোন পদে চাকরি পাবে, তা কি সরকারের থেকে অনুমতি নিয়ে হয়েছে? নাকি একচ্ছত্র মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নিজের ইচ্ছামতো করেছে? 

Advertisement

এই মামলার ফলের উপর পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসায় কয়েক হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই সওয়াল করতে গিয়ে আবেদনকারীদের আইনজীবী পীযূষ রায়, আবু সোহেল, বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যদের বক্তব্য, পরীক্ষার্থীরা যথাযথ নিয়ম মেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে নিয়োগের অধিকার ম্যানেজিং কমিটি নাকি রা‌জ্য  মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের, সেই বিতর্কের মধ্যে চাকরিরতদের কেন টানা হচ্ছে? তাঁরা তো শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে পরীক্ষা দিয়েই চাকরি পেয়েছেন। গত ৮-১০ বছর ধরে চাকরিও করছেন।
যদিও শুনানির পর্যবেক্ষণে সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রসঙ্গ তোলেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। বলেন, ‘সব পরীক্ষার্থী তো লিক হওয়া প্রশ্ন পায়নি। তা সত্ত্বেও তো সবাইকেই ফের পরীক্ষায় বসতে হবে। ফলে কোনো বড়ো স্বার্থে এই ব্যবস্থা মেনে নিতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যোগ্য বা অনেক দিন চাকরি করলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে প্রমাণ হলে ফল সবাইকেই ভুগতে হবে।’ 
উল্লেখ্য, ২০১৬-২০২০ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসায় ব্যাপক হারে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করেছিল সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি। যার বিরোধিতা করেছে রাজ্য সরকার। ২০২৪ সাল থেকে চলছে মামলা। ৪০ দিন শুনানি শেষে রায় রিজার্ভ রাখল শীর্ষ আদালত। 
অন্যদিকে, কোরবানি উপলক্ষ্যে পশু জবাইয়ের সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ল জনস্বার্থ মামলা। সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা আইনজীবী শান্তিরঞ্জন দাশ এই মামলায় যুক্ত। পশ্চিমবঙ্গের পশু জবাই ইস্যু঩তে দায়ের হওয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেখানে সব ধর্মের উৎসব, পার্বণ পালন করার সাংবিধানিক অধিকার আছে। তাই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পশু জবাই একপ্রকার নিষিদ্ধ করার মতো নির্দেশ দেওয়া যায় না। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছে। শীঘ্রই শুনানি হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ