Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শংসাপত্র জাল প্রমাণ হলেই চাকরি বাতিল, কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু

জালিয়াতি করে জাতিগত শংসাপত্র প্রাপকদের আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু

শংসাপত্র জাল প্রমাণ হলেই চাকরি বাতিল, কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জালিয়াতি করে জাতিগত শংসাপত্র প্রাপকদের আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। এবার জাল শংসাপত্র নিয়ে চাকরিরতদেরও কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী। ক্ষুদিরামবাবু বলেন, কেউ জাল শংসাপত্র নিয়ে সরকারি চাকরি করছেন প্রমাণ হলে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হবে। ওই শংসাপত্র ইস্যু করা সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাল এসটি শংসাপত্র নিয়ে এমবিবিএসে ভরতি হওয়া এক ছাত্রীর প্রসঙ্গ ওঠে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই মন্ত্রী সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা ওই ছাত্রী ‘উত্তরবঙ্গ লবির’ সাহায্যে জাল এসটি শংসাপত্র জোগাড় করেছিল। সাধারণ শ্রেণিভুক্ত হওয়ার পরেও সে তফসিলি জাতির কোটায় এমবিবিএসে ভর্তি হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।    
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার আগে অনেক মাপকাঠি দেখে নেওয়া হয়। অন্যান্য নথির সঙ্গে পূর্বে পাওয়া পরিবারের কারও জাতিগত শংসাপত্রের প্রত্যয়িত নকল জমা দিতে হয়। তা দেখে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে প্রাথমিকভাবে তফসিলি জাতি বা উপজাতি শ্রেণিভুক্ত হিসাবে গণ্য করা হয়। বাকি মাপকাঠি পূরণ হলে আবেদনকারীকে চূড়ান্ত শংসাপত্র দেওয়া হয়। পরিবারের কারও শংসাপত্র না থাকলে সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ি করা হয়। জালিয়াতি চক্রের পান্ডারা এই সুযোগকেই কাজে লাগাত বলে অভিযোগ। 
কীভাবে চলত উত্তরবঙ্গের ওই চক্র? জানা গিয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্যের জাতিগত শংসাপত্র নেই, এমন আবেদনকারীকে শংসাপত্র বিভাগের কর্মীদের একাংশ চিহ্নিত করত। পরে তাদের আবেদনগুলিকে বাছাই করে অফিসের বাইরে বা কর্মীদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে চলত দর কষাকষি। কমপক্ষে এক লক্ষ টাকায় চুক্তি হত। আবেদনকারীর হাতে অভিযুক্ত কর্মীরা ‘ব্ল্যাঙ্ক’ শংসাপত্র তুলে দিত। তা পরিবারের কোনো সদস্যের নামে পূরণ করা হত। শংসাপত্রে থাকা আধিকারিকের সই অনেক সময় জাল করা হত। কর্মীরাই অফিসের সিল শংসাপত্রে দিত। ওই শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর আগের কোনো তারিখ দিয়ে দেওয়া হতো। এবার ওই শংসাপত্র নতুন আবেদনপত্রের সঙ্গে জুড়ে অফিসের ফাইলে ঢুকিয়ে দেওয়া হত। ফলে নতুন শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আর কোনো বাধা থাকত না। 
কীভাবে চক্রের পাণ্ডারা ধরা পড়ল? এক আধিকারিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জালিয়াতি চক্র চলার ফলে মালদহ সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় অনেক অযোগ্য আবেদনকারী শংসাপত্র পেয়ে যায়। তাদের মধ্যে অনেকে সংরক্ষণের সুযোগ নিয়ে সরকারি চাকরিও পেয়ে গিয়েছে। ফলে জালিয়াতি চক্রের পান্ডারা আরও বেশি টাকা কামানোর মওকা পেয়ে যায়। পুরানো তালিকা ধরে একের পর এক অযোগ্য প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আড়াই লক্ষ টাকা না দেওয়া হলে সবকিছু ‘ফাঁস’ করে দেওয়ার পাশাপাশি শংসাপত্র বাতিল করে দেওয়া হবে বলে চক্রের চাঁইরা কয়েকজনকে হুঁশিয়ারি দেয়। নিমরাজি হওয়ায় কয়েকজনের বাড়ি পর্যন্ত অফিসের বোর্ড লাগানো চারচাকা গাড়ি নিয়ে কর্মীরা পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ। চাকরি বাঁচাতে অযোগ্যদের অনেকেই কর্মীদের দাবিমতো টাকা মিটিয়ে দেয়। অতি লোভের কারণেই চক্রের পান্ডারা ধরা পড়ে যায়। বাঁকুড়া মেডিকেলের বহিষ্কৃত ওই ছাত্রীও সেভাবেই জাল শংসাপত্র জোগাড় করেছিল বলে আধিকারিকরা জানতে পারেন। এবার মন্ত্রী কড়া বার্তা দেওয়ায় জালিয়াতি করে শংসাপত্র পাওয়া সকলের রাতের ঘুম উবে যাবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।

সম্পর্কিত সংবাদ