নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: উপ নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের বেকার যুবক-যুবতীদের সামনে বিরাট কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে জেলা প্রশাসন। জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে নন্দীগ্রামে রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে। সেখানে বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীর হাতে চাকরির অফার লেটার তুলে দেওয়া হবে। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলাশাসক অফিসে এনিয়ে জরুরি মিটিং হয়। সেখানে জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট অফিসার, জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার ছাড়াও ভার্চুয়াল মাধ্যমে এইচডিএর চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার, হলদিয়ার মহকুমা শাসক, শ্রম দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার এবং ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ প্রমুখ অংশ নিয়েছিলেন। ঠিক হয়েছে, হলদিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শূন্যস্থান পূরণ করতে নন্দীগ্রামের যুবকদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। এজন্য প্রশাসন শীঘ্রই হলদিয়ার বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিংয়ে বসবে। কোথায় কত সংখ্যক কর্মী নিযুক্ত করা যেতে পারে তা নিয়ে সম্ভাব্য তালিকা তৈরি হবে। এরপর নন্দীগ্রামে আয়োজিত রোজগার মেলা থেকেই সেখানকার যুবকদের হাতে অফার লেটার দেওয়া হবে।
উপ নির্বাচনের প্রাক-মুহূর্তে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ নন্দীগ্রাম বিধানসভাজুড়ে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সোমবার জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এবং হলদিয়ার মহকুমা শাসক সুরভী সিংলা নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিসে উপস্থিত ছিলেন। এক অনুষ্ঠানে সেখান থেকে ৫০০জনকে নারকেল চারা বিতরণ করা হয়। সেইসঙ্গে আগামী দিনে নন্দীগ্রাম বিধানসভাজুড়ে উন্নয়নের গুচ্ছ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন জেলাশাসক। হরিপুরে দমকল কেন্দ্র, হলদি নদীর উপর ব্রিজ, রেললাইন ছাড়াও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, আইটিআই তৈরি হবে। ক্যাম্প থেকে বিকশিত ভারত জি রামজি প্রকল্পে জবকার্ড বিলির কর্মসূচি শুরু হবে নন্দীগ্রাম থেকেই। পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিতে কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে নন্দীগ্রামে রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে। তাতে মহকুমা প্রশাসন, জেলা শিল্পকেন্দ্র, শ্রমদপ্তর, ফ্যাক্টরিজ বিভাগ, উৎকর্ষ বাংলা সহ বিভিন্ন বিভাগ যুক্ত হবে। হলদিয়ার বিভিন্ন কারখানায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এইচডিএর সিইও এবং মহকুমা শাসক এনিয়ে বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিং সারবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে এই নন্দীগ্রাম। ২০২১সালে এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৬সালে প্রেস্টিজ ফাইটে তাঁর পাশেই থেকেছে নন্দীগ্রাম। যদিও দুই জায়গা থেকে জয়ী হওয়ার কারণে তিনি একটি বিধানসভা থেকে ইস্তফা দেন। নন্দীগ্রাম বিধানসভা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দুবাবু তাঁর প্রিয় বিধানসভাকে সাজানোর কাজে হাত লাগিয়েছেন। ব্রিজ, রেল প্রকল্প, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল তারই অংশ। তবে, এই নন্দীগ্রামের বহু যুবক কর্মসূত্রে পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের কাছে কাজের সুযোগ নেই। সেজন্য নন্দীগ্রামের বেকার যুবকদের এবার কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ ড্রাইভ নেওয়া হচ্ছে। সেজন্য রোজগার মেলার আয়োজন।