হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ... হ্যাপি বার্থ ডে...
Advertisement
জন্মদিন। ফি বছর এই দিনটিতেই কত উৎসব, কত উদযাপন। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এই বিশেষ দিনটি এলেই মুখ বেজার হয়ে যায়। হবে নাই বা কেন? জন্মদিন যে ২৯-এর ফেব্রুয়ারি। লিপ ইয়ার ছাড়া উদযাপনের উপায় নেই। শুনলে অবাক হবেন, সুইডেনের বহু মানুষের জন্মদিন ৩০ ফেব্রুয়ারি। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, ৩০ ফেব্রুয়ারি। অঙ্কের হিসেব মেলানোর খেসারত এখনও দিতে হচ্ছে তাঁদের। কেন এই পরিস্থিতি? ইতিহাস বলছে, ১৭০০ সালে সুইডেন হঠাৎই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে যুক্ত হতে চায়। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, সেই বছর থেকে আর লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ পালন করবে না। ১৭০০ সাল, ১৭০৪ সাল ও ১৭০৮ সাল—এই তিনটি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ দিনই কাটায় তারা। অথচ ওই বছরগুলিই ছিল অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার। এরপর শুরু হল যুদ্ধ। জরুরি কাজের চাপে ক্যালেন্ডারের কথা তখনকার মতো সবাই ভুলেই গিয়েছে। কয়েক বছর পর সম্রাট দ্বাদশ চার্লস বুঝতে পারলেন গণ্ডগোলটা কোথায়। দেখা গেল, সুইডেনে জুলিয়ান বা গ্রেগরিয়ান —কোনও ক্যালেন্ডারই মানা হচ্ছে না। তাহলে সমাধান কী? দিনক্ষণের সমস্ত চলতি হিসেব বাতিল করে দিলেন সম্রাট। নতুন করে হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখা গেল, সবই মোটের উপর ঠিক আছে। শুধু ১৭০০ সালের অধিবর্ষের দিনটি মিলছে না। গণনা ঠিক রাখতে ১৭১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির পরে আরও একটি দিন যোগ করা হল। তৈরি হল ৩০ ফেব্রুয়ারি! এভাবেই, ইতিহাসে একবারই এসেছিল ৩০ ফেব্রুয়ারি, সুইডেনে। সেই দিনটি আর কখনও, কোথাও আসবে না। তাই যাঁদের ২৯ ফেব্রুয়ারি জন্ম। চার বছর পর জন্মদিনের পালন করা নিয়ে কেঁদে ভাসান! তাঁরা দুঃখ কমাতে, সুইডেনের ওই মানুষগুলোর কথা ভাবতেই পারেন।



