Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জঙ্গিপুরের পুলিস ইনসপেক্টরের সোয়া  ১ কোটি টাকার আয় বর্হিভূত সম্পত্তি! 

জঙ্গিপুরের পুলিস ইনসপেক্টরের সোয়া  ১ কোটি টাকার আয় বর্হিভূত সম্পত্তি! 
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: জঙ্গিপুরে কর্মরত এক ইনসপেক্টরের আয়বর্হিভূত সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার! রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখায় জমা পড়া নথি দেখে তাজ্জব আদালত। সামান্য একজন ইনসপেক্টর কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ নগদের অধিকারী হলেন? গুরুতর প্রশ্ন এনিয়েই। ইতিমধ্যে ওই পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে কেস রুজু করে তাঁর মধ্যমগ্রামের বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে। সেখান থেকে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নথি।
Advertisement
আদালত সূত্রের খবর, এই ইনসপেক্টর বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ছিলেন। অবশেষে জঙ্গিপুর পুলিস জেলায় অনেকদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি একসময়ে ছিলেন আদালতেরও দায়িত্বে। তখনই তাঁর বিরুদ্ধে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ওই ইনসপেক্টরের বিরুদ্ধে নবান্ন অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারে, কেস খারিজ করে দেওয়া বা মামলা না-করার সূত্রেই তিনি এই বিপুল পরিমাণ টাকা তুলেছেন। এমনকী, কোনও কোনও অভিযুক্তকে জামিন করিয়ে দিয়েও তিনি বড় অঙ্কের দাঁও মেরেছেন বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি থানা এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম চলতে দিয়ে সেখান থেকেও নাকি এই ‘কীর্তিমান’ মোটা মাসোহারা নিতেন। অর্থাৎ এসব টাকার পুরোটাই ‘ঘুষের’ বলে খবর মিলেছে। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখা কেস রুজু করে। 
আদালতে জমা পড়া নথি থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৪-১৬ এই তিনবছরে অভিযুক্ত ইনসপেক্টরের আয়বহির্ভূত সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি  ২৫ লক্ষ টাকা। এই তিনবছরে তিনি যে বেতন পেয়েছেন তার কপি স্বরাষ্ট্রদপ্তর থেকে সংগ্রহ করে তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জমা দিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনবছরে তিনি ৩৫ লক্ষ টাকা রোজগার করেছেন। অথচ তিনি ব্যাঙ্কে  নগদ জমা করেছেন ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি থেকে আদালত জেনেছে, প্রতিদিনই তাঁর বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। ইনসপেক্টর ছাড়াও তাঁর পরিবারের অন্যদের নামে খোলা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ওই টাকা। আবার ওই টাকা জমা পড়ার দিনই তা ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, সার্টিফিকেট প্রভৃতি কিনেছেন। সেসবেরও অঙ্ক কয়েক লক্ষ টাকার অধিক। যে ব্যক্তি বেতন পেলেন তিনবছরে ৩৫ লাখের মতো, তিনি ১ কোটি ১০ লক্ষ জমালেন কোন জাদুতে! স্বভাবতই বিস্মিত আদালত। 
জমা পড়া নথি থেকে আরও জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ইনসপেক্টর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদে টাকা নিতেন। ওই টাকা ব্যাঙ্কে জমা করতে পাঠাতেন বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে। ওই টাকায় তিনি নামে-বেনামে আবার একাধিক সম্পত্তিও কিনেছেন বলে অভিযোগ। বেশিরভাগ কেনাকাটা হয়েছে ২০১৪-১৬ সালের মধ্যেই। এমনকী, বিভিন্ন সংস্থাতেও তাঁর টাকা খাটছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে জঙ্গিপুর সাইবার থানায় পোস্টিং ওই ইনসপেক্টরের মধ্যমগ্রামের বাড়িতে তল্লাশির জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়। সেই আর্জি মঞ্জুর হওয়ার পর তল্লাশিও হয়েছে। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাঁর ব্যাঙ্কের বিভিন্ন নথি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই পুলিসি জেরারও মুখোমুখি হতে হবে ওই ইনসপেক্টরকে। 
সম্পর্কিত সংবাদ