নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিচয় লুকিয়ে অসমে অটো চালাচ্ছিল আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) অন্যতম মাথা নুর ইসলাম। যাতে তার প্রতি কারও সন্দেহ না জাগে। পাশাপাশি অটো চালকদের মধ্যেও জেহাদি ভাবধারার প্রচার করছিল। নুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছে অসম পুলিসের এসটিএফ। একইসঙ্গে পুরনো গাড়ি কেনার জন্য মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার জঙ্গি সহকর্মী মিনারুল শেখকে নির্দেশ দিয়েছিল এদেশে এবিটি’র কো-অর্ডিনেটার মহম্মদ শাদ রবি ওরফে সাহেব। এই গাড়িগুলি নিয়ে বাংলা ও অসমের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
নুর ও শাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, পাকিস্তান থেকে নভেম্বরেই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ হয়ে মুর্শিদাবাদ এসে পৌঁছনোর কথা ছিল। এবিটি প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানির কাছে ফান্ড এসে গেলেও, সীমান্তে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তা ঢোকানো যাচ্ছিল না। এদিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল কেনার জন্য টাকার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। শাদ তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তহবিল সংগ্রহের জন্য জেএমবি আগে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে বেড়াত। এরজন্য আলাদা টিম তৈরি করেছিল। পাশাপাশি অন্য কাজ করেও সংগঠনের জন্য অর্থ তুলছিল। জেএমবির সেই স্ট্রাটেজিই বেছে নেয় তারা। সেইমতো শাদ মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থেকে ধৃত এবিটি জঙ্গি মিনারুল ও আব্বাসকে নির্দেশ দেয়, পুরনো গাড়ি কিনতে। এরজন্য টাকাও সে দেয়। সেইমতো এলাকা থেকে দুটি গাড়ি কেনে। তাতে করেই সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন জেলায় ডাকাতির ছক কষে তারা। ওই সমস্ত এলাকায় বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা ব্যাঙ্ক কোথায় রয়েছে এবং কীভাবে পালানো যাবে গাড়ি নিয়ে, তার খোঁজখবর চালাচ্ছিল। এরসঙ্গেই শাদ নির্দেশ দিয়েছিল, খারিজি মাদ্রাসায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ শেষের পর সমস্ত সদস্যকে বিভিন্ন কাজ করতে হবে। যাতে তাদের প্রতি কারও সন্দেহ না জাগে। সেইমতো ধরা পড়া এবিটি জঙ্গিদের কেউ অটো বা টোটা চালাচ্ছিল। আবার কেউ সাধারণ সব্জি বিক্রেতা বনে যায়। বিভিন্ন পেশা বা ব্যবসায় ঢুকে সেখানে নিয়োজিত লোকজনকে জেহাদি ভাবাদর্শের প্রতি উদ্বুদ্ধ করাও ছিল তাদের লক্ষ্য। শাদের নির্দেশমতো মিনারুল মুর্শিদাবাদে ট্রাভেল এজেন্সি খোলার কাজ শুরু করেছিল। যাতে এবিটি’র স্লিপার সেলের সদস্যরা সেখানে কাজের পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপও চালিয়ে যেতে পারে। সীমান্ত পেরোনো জঙ্গিদের জন্য এই গাড়ি ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অস্ত্র ও বিস্ফোরক এই গাড়িতে চাপিয়েই আনার পরিকল্পনা ছিল। এরজন্য মিনারুল ও আব্বাস দুটি পুরনো গাড়ি কেনে। এই গাড়ি ব্যবহার করে শাদ বেশ কয়েকবার অসমে গিয়েছে বলে খবর। দুটি গাড়ি কোথায় রয়েছে, তা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।



