নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: জলে, স্থলে বিনোদনের অফুরন্ত আয়োজন। বড়দিনের প্রাক্কালে তাই মানুষের ঢল শ্রীরামপুরের দিকে। জেলা তো বটেই বাইরে থেকেও বহু মানুষ রবিবার শ্রীরামপুরের প্রথম হেরিটেজ উৎসবে ভিড় জমালেন। বিকেল থেকেই শহর চলে গিয়েছিল মানুষের দখলে। রাতে প্রমোদতরণী ভিড়ে থিকথিক করছে। গঙ্গার বুক থেকে ভেসে আসছে সঙ্গীতের সুর, দেশি-বিদেশি খাবারের আঘ্রাণ। কেউ জল সাফারিতে মজলেন। অনেকে পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন। গঙ্গার পাড় ধরে শহর শ্রীরামপুর সেজে উঠেছে নতুন সাজে। সে সবের প্রতিফলন ফুটে উঠল গঙ্গায়। যেন নির্মাণ হল নতুন দৃশ্যপট।
Advertisement
কোথাও খাদ্য উৎসব তো কোথাও ইতিহাসকে খুঁজে দেখার হাতছানি, কোথাও ডেনিস ট্যাভার্নের মায়াবী আহ্বান তো কোথাও আধুনিক গানের সঙ্গত। প্রথম হেরিটেজ উৎসব ঘিরে শহরবাসীর চোখেই নতুন হয়ে উঠেছে শ্রীরামপুর। রবিবার ছিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন। একে ছুটির দিন তারপর পার্ক স্ট্রিটকে টেক্কা দেওয়ার ঘোষণা, ফলে ঐতিহ্যের শহরে হুমড়ি দিয়ে পড়েছিল ভিড়। স্টেশন থেকে ফেরিঘাট থেকে সেন্ট ওলাভ গির্জা অভিমুখী ভিড় পুজোর মরশুমকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পথে নেমেছিল। ভিড়ের দাপটে উজ্জ্বল হেরিটেজ উৎসবের আয়োজক শ্রীরামপুর পুরসভার কর্তাদের মুখ। কথাবার্তাতেও সেই উচ্ছ্বাস। পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, ‘মানুষকে আমরা পার্ক স্ট্রিটের বিকল্প গন্তব্য দিতে চেয়েছিলাম। দর্শকরাই শহরে ভিড় জমিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ করে দিয়েছেন।’ উৎসবের মুখ্য আয়োজক ও পুরকর্তা সন্তোষ সিং(পাপ্পু) বলেন, ‘ইতিমধ্যেই বাংলার সংস্কৃতিপ্রেমী মুখ্যমন্ত্রী আমাদের শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন। ২৫ ডিসেম্বর থেকে উৎসবের জৌলুস আরও বাড়বে। বর্ষবরণ ও বড়দিনকে কেন্দ্র করে আমরা একাধিক চমক প্রস্তুত রাখছি। উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছেন তাতে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। শ্রীরামপুরের ঐতিহ্য, ইতিহাস, বাণিজ্যকে শো-কেস করার ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি থাকবে না।’



