নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হচ্ছে ভিবি জি রাম জি প্রকল্প। যার মাধ্যমে রাজ্যের আড়াই কোটির বেশি জবকার্ড হোল্ডারের ন্যূনতম ১২৫ দিনের কাজ সুনিশ্চিত করবে রাজ্য। কিন্তু, কোনো আবেদনকারী কর্মসংস্থানের জন্য আবেদন করার পর ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না পেলে তিনি দৈনিক হারে বেকার ভাতা পাবেন।
সংশ্লিষ্ট আইনের আনেমপ্লয়মেন্ট অ্যালোয়েন্স সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ করে এই বেকার ভাতার হার নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থবর্ষের প্রথম ৩০ দিনের জন্য বেকার ভাতা হবে ঘোষিত মজুরির কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ। পরবর্তী সময়ের জন্য বেকার ভাতা হবে ঘোষিত মজুরির কমপক্ষে অর্ধেক। অর্থাৎ, ৫০ শতাংশ। এছাড়া কাজ করার পর সাপ্তাহিক বা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট সময়ে মজুরি না পেলে প্রতি দিনের জন্য ০.০৫ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণ পাবেন তাঁরা। এই প্রকল্পের ৬০ শতাংশ অর্থ দেবে কেন্দ্র এবং ৪০ শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার। তবে বেকারভাতা ও মজুরি বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ দায় থাকবে রাজ্যের উপর।
মনরেগা প্রকল্পের দুর্নীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ছমাস অন্তর সোশ্যাল অডিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সমস্ত হিসাব, মজুরি তালিকা, কাজের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। গ্রামসভা নিয়মিত তা পর্যালোচনা করবে। দুর্নীতি বা তছরুপ ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা ও অর্থ পুনরুদ্ধারের বিধান রাখা হয়েছে।
১ জুলাই থেকে গ্রামে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্প চালু করা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। গ্রামীণ এলাকার যেসব পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা অদক্ষ শ্রমিকের কাজ করতে আগ্রহী, তাঁরাই এই প্রকল্পে কাজের আবেদন করতে পারবেন। একক মহিলা, বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ, বিশেষভাবে দুর্বল আদিবাসী গোষ্ঠী, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
এই প্রকল্পে চারটি বড়ো বিভাগে কাজ হবে। প্রথমটি হল, জল সংরক্ষণ ও জল নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খাল, চেক ড্যাম, পুকুর সংস্কার, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, বনসৃজনের কাজ করা হবে। দ্বিতীয়ত, মূল গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ রাস্তা ও কালভার্ট, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি, লাইব্রেরি, শ্মশান, স্যানিটেশন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জল জীবন মিশনের অবকাঠামো মেরামতি করা হবে। জীবিকা-ভিত্তিক পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে হাট-বাজার নির্মাণ শস্যগুদাম ও হিমঘর, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভবন, পশুপালন ও মাছচাষ পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার লক্ষ্যে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, রাস্তা মেরামতি, বন আগুন রোধ ব্যবস্থাও তৈরি হবে এই প্রকল্পের সঙ্গে অন্যান্য প্রকল্পের সংযুক্তিকরণ বা কনভারজেন্সের মাধ্যমে। কাজের অগ্রগতি এবং মূল্যায়নের জন্য চলবে ডিজিটাল নজরদারি। থাকছে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি, প্রতিটি প্রকল্পের জিও-ট্যাগিং ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যাবস্থা। এমনকি পরিকল্পনা, নিরীক্ষা ও জালিয়াতি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কাজ গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে করাতে হবে এবং কোনো ঠিকাদার নিয়োগ করা যাবে না। কৃষিক্ষেত্রে শ্রমিকের সংকট এড়াতে কৃষি মরশুমে (বছরে মোট ৬০ দিন ) ভিবি জি রাম জির কাজ বন্ধ থাকবে।