Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’র সাইবার প্রতারণা, উদ্বিগ্ন পুলিস

ঝাড়গ্রামে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’র সাইবার প্রতারণা, উদ্বিগ্ন পুলিস
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অচেনা নম্বর থেকে আসছে ফোন। তা ধরলেই অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই, ইডি বা ট্রাই আধিকারিক বলে পরিচয় দিচ্ছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অবৈধ লেনদেন, ওষুধের বেআইনি কারবার, জাল পাসপোর্ট তৈরির মতো নানা অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করার কথা বলছে। এভাবে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের একাধিক ব্যক্তি এরকম ভুয়ো ডিজিটাল গ্ৰেপ্তারির পরোয়ানা পেয়ে সাইবার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। পুলিস এবিষয়ে সচেতনতা প্রচার করছে।
Advertisement
সাইবার প্রতারণার নতুন নাম ডিজিটাল অ্যারেস্ট। রাজ্যের অন্য প্রান্তের সঙ্গে ঝাড়গ্রাম জেলাতেও প্রতারণার জাল ছড়াচ্ছে। সাইবার বিভাগ সূত্রের খবর, দু’তিন মাসে জেলার একাধিক ব্যক্তি ডিজিটাল অ্যারেস্ট হওয়ার ফোন পেয়েছে। মান-সম্মান হারানোর ভয়ে অনেকেই প্রতারকদের টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সাহস জুটিয়ে সাইবার থানার দ্বারস্থ হচ্ছেন।
জেলায় ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণায় রাজস্থানের জয়পুর ও আলোয়ার থেকে দু’জনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। পুলিস হেফাজতে থাকা সুরেন্দ্রকুমার দিগই ও আরিয়ান মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারকচক্রের বাকিদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা ডিজিটাল অ্যারেস্ট হওয়ার ফোন পাচ্ছেন। বিষয়টি পুলিসের মাথাব্যথার কারণ হচ্ছে।
যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য পোস্ট করেন, তাঁরাই বেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেকেই নিজের বাড়ি, গাড়ি, বিলাসী জীবনযাত্রার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেগুলি সাইবার প্রতারকদের নজরে পড়লে তারা ওই ব্যক্তিদের টার্গেট করে।জেলা পুলিসের সাইবার বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, কয়েকমাসে জেলার একাধিক ব্যক্তি ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফোন পেয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমাদের তরফে এটাই বলা হচ্ছে, অপরাধ-সংক্রান্ত কোনও মামলা হলে স্থানীয় থানা বিষয়টি জানবে। এছাড়া, তদন্তকারী পুলিস ও অন্য দপ্তরের আধিকারিকরা ফোন বা ভিডিও কল করে অ্যারেস্ট হওয়ার কথা বলবে না বা টাকা চাইবে না। তারপরও অনেকে ভয় পেয়ে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে সঞ্চিত টাকা খোয়াচ্ছেন।
ঝাড়গ্রাম শহরের এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, আমার বাবা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ভয় পেয়ে প্রতারকদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দেন। পরে আমরা থানায় অভিযোগ করি। ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিসের সাইবার বিভাগের আধিকারিক সব্যসাচী ঘোষ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য পোস্ট করা থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। কারণ এই প্রতারকরা সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করছে। ঝাড়গ্রামের একাধিক ব্যক্তি ডিজিটাল অ্যারেস্ট হওয়ার ফোন পেয়েছেন। এধরনের ফোন পেলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় এসে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। দু’জনকে গ্ৰেপ্তার করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ