Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঝাড়খণ্ডের সাইবার প্রতারণা চক্রের ঘাঁটি মুড়াগাছার হোটেলে! পুলিসি হানায় ধৃত ৫

‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তো আপনার এমনিই পড়ে রয়েছে। কোনও কাজে লাগছে না। আমাদের একটু ব্যবহার করতে দিন। মাসোহারা পাবেন।’

ঝাড়খণ্ডের সাইবার প্রতারণা চক্রের ঘাঁটি  মুড়াগাছার হোটেলে! পুলিসি হানায় ধৃত ৫
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তো আপনার এমনিই পড়ে রয়েছে। কোনও কাজে লাগছে না। আমাদের একটু ব্যবহার করতে দিন। মাসোহারা পাবেন।’ মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা মুফতে পাওয়ার লোভে পড়ছেন আর্থিকভাবে দুর্বল কিছু মানুষ। আর সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে হাতিয়ার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে হাতানো চলছে বিপুল টাকা। শনিবার সোদপুর মুড়াগাছার এক হোটেল থেকে এমনই এক চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বারাকপুরের সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস তাদের জেরা করছে। সূত্রের খবর, ধৃতদের নাম সামির আলি, রবিকুমার সাউ, মহম্মদ ইমরোজ আনসারি, মায়াঙ্ককুমার শর্মা ও দীপ বাউরি। প্রথম চারজন ঝাড়খণ্ডের এবং দীপ পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল, সাতটি ডেবিট কার্ড এবং বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। ধৃতরা বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়াত। কোনও এলাকায় গিয়ে বিপুল টাকায় স্থানীয় সোর্স জোগাড় করত। এরপর বিভিন্ন বস্তি এলাকায় নজর দিত। মোটা অঙ্কের মাসোহারার লোভ দেখিয়ে গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ভাড়ায়’ নিত তারা। এরপর ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ নানান তথ্য নিয়ে মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপ খুলে নিজেদের ফোন নম্বর অ্যাড করত। এরপর ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করত তারা। বিভিন্ন রাজ্যে সাইবার প্রতারণার অর্থ এইসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হাপিস করা হতো। এরপর দেশের বিভিন্ন এটিএম থেকে তারা সেই টাকা তুলে নিত। পরে বিপদে পড়তেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিকরা। সাইবার থানার তরফে জানানো হয়েছে, ধৃতরা এই পুলিস কমিশনারেট এলাকায় কত অ্যাকাউন্ট ভাড়ায় নিয়েছে, সেখানে এখনও পর্যন্ত কত টাকার লেনদেন হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ