Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম স্টেশন বাজারে ঢুকতে বাধা রেলের, বিক্ষোভ চাষি ও বিক্রেতাদের

অমৃত ভারত প্রকল্পে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে কাজ হবে। রেলের তরফে স্টেশনের জায়গায় থাকা সব্জি মার্কেটের ৩১জন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের নোটিস ধরানো হয়েছে

ঝাড়গ্রাম স্টেশন বাজারে ঢুকতে বাধা রেলের, বিক্ষোভ চাষি ও বিক্রেতাদের
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অমৃত ভারত প্রকল্পে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে কাজ হবে। রেলের তরফে স্টেশনের জায়গায় থাকা সব্জি মার্কেটের ৩১জন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের নোটিস ধরানো হয়েছে। সাংসদ কালীপদ সরেন রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়। তা সত্ত্বেও শুক্রবার ভোররাতে রেলের তরফে মার্কেট সংলগ্ন রাস্তায় দু’টি ব্যারিকেড দেওয়া হয়। সব্জি ব্যবসায়ী ও চাষিদের মার্কেটে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। রাস্তায় সব্জি ফেলে চাষি ও সব্জি বিক্রেতারা বিক্ষোভ দেখান। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব রেলের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। খড়্গপুরের সিনিয়র ডিসিএম অলোক কৃষ্ণ বলেন, এবিষয়ে আমাদের কাছে কোনও খবর নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম স্টেশন লাগোয়া সব্জি মার্কেটে দুশোর বেশি আনাজ, মিষ্টি ও স্টেশনারির দোকান রয়েছে। ব্যাবসায়ীরা রেলকে বার্ষিক ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করেন। রেলের তরফে ৩১জন ব্যাবসায়ীকে উচ্ছেদের নোটিস ধরানো হয়েছে। সাতজন ব্যবসায়ীকে আগামী ৩১মার্চের মধ্যে রেলের জায়গা ছেড়ে দেবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা জানতে পেরে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন সাংসদ কালীপদ সরেন। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে পদক্ষেপ না করার কথা সাংসদকে জানানো হয়। তারপরও শুক্রবার ভোররাতে রেলের তরফে সব্জি বিক্রেতা ও চাষিদের মার্কেট এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। রাস্তার দু’টি জায়গায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়। সব্জি নিয়ে আসা বহু গাড়ি আটকে যায়। সব্জি বিক্রি করতে আসা চাষিদের আটকে দেওয়া হয়। এরপরই সব্জি বিক্রেতা ও চাষিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বস্তায় করে আনা সব্জি রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বাজারে উত্তেজনা ছড়ায়। ঝাড়গ্রাম থানার পুলিস সেখানে আসে। তারপরই রেল পুলিসের তরফে দ্রুত ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়। চাষি জগবন্ধু মাঝি বলেন, ভোর ৩টে থেকে রেল পুলিস আমাদের মার্কেটে ঢুকতে দেয়নি। রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের আটকে দেওয়া হয়। এত সব্জি রাখার কোনও জায়গাই নেই। সব্জি বিক্রি না হওয়ায় চাষিরা তা রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন। সব্জি বিক্রেতা বিজয় যাদব বলেন, রেলের তরফ আগে থেকে জানানো হয়নি। ভোররাতে বাজারে এসে দেখি মার্কেটে ঢোকার মুখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিক।  এদিন চাষিরা আমাদের সব্জি বিক্রি করতে পারেননি। বাজারে বেচাকেনা হয়নি। স্থানীয় কাউন্সিলার অজিত মাহাত বলেন, উচ্ছেদ নিয়ে রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে অবগত। রেলের তরফে আলোচনা না করে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তারপরও রেল যা করেছে তা নিন্দনীয়। বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ স্তরে জানানো হবে। সাংসদ কালীপদবাবু বলেন, রেল আধিকারিকদের সঙ্গে দিনকয়েক আগেই বৈঠক হয়েছে। রেলের তরফে বলা হয়েছিল, সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখা হবে। রেলের এই কাজের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হবে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ