প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার লোকজ শিল্প আজও টিকে রয়েছে। জেলার আদিবাসী, জনজাতিগোষ্ঠীর মানুষ বংশপরম্পরার এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। জঙ্গলভূমির মানুষের সেই শিল্পকর্মই এবার বিশ্বের দরবারে পৌঁছে যাবে। লন্ডন, প্যারিসের মতো শহরেও বেলপাহাড়ীর পাহাড়কাটা পাথরের থালা, গ্লাস, সবাই ঘাসের ব্যাগ-ঝুড়ি, হাতের তৈরি তালপাতার পাখা বিক্রি হবে। এই উদ্দেশ্যে সম্প্রতি জেলাশাসকের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জেলার লোকজ শিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে কর্মশালা হয়।
জেলাশাসকের কার্যালয়ে ডিস্ট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আদিবাসী হস্তশিল্পীরা তাঁদের হাতের তৈরি নানা সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তাঁদের নাম নথিভুক্ত ও তাঁদের সামগ্রীর বাজারদর ঠিক করা হয় ভারত সরকারের ট্রাইবাল মন্ত্রণালয়ের অধীনে ট্রাইবাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া তথা ট্রাইফেডের পক্ষ থেকে।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর, জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক গোবিন্দ দত্ত(সাধারণ), অতিরিক্ত জেলাশাসক অরূপ দত্ত(উন্নয়ন), ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম সহ কেন্দ্রের ট্রাইফেডের পশ্চিমবঙ্গ ও আন্দামানের রিজিওনাল ম্যানেজার জাইনাব সাঈদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের লোকজ ১৫০জন লোকজ শিল্পীর পাথরের থালা, বাটি, গ্লাস, মূর্তি বাবুই ও সবাই ঘাসের হস্তশিল্প বাঁশ, শালপাতা, গাছেরগুঁড়ি ও কাঠ দিয়ে পশু পাখি প্রদর্শন করা হয়। নয়াগ্রাম ব্লকের কাদোকোঠা গ্ৰামের বাসিন্দা বেবি সরেন মাণ্ডি বলেন, বাবুইঘাস দিয়ে ব্যাগ সহ নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করি। জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে বাবুইঘাস পাওয়া যায়। স্থানীয় হাটে, বাজারে এই ব্যাগের তেমন চাহিদা নেই। কলকাতা থেকে পাইকার এসে কিনে নিয়ে যায়। বিদেশে আমাদের তৈরি বিক্রি হবে। রোজগারের সঙ্গে স্থানীয় লোকজ শিল্পের কথা দেশ বিদেশের মানুষ জানবে।
বেলপাহাড়ী ঢাঙ্গি কুসুম গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল সিং বলেন, পর্যটকরা ঘুরতে এলে পাথরের জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যায়। তবে এবার বিদেশের বাজারেও আমাদের জিনিস বিক্রি হবে শুনে খুবই ভালো লাগছে। বিক্রি করার বড় বাজার পেতে চলেছি। উপার্জনও ভাল হবে।
ঝাড়গ্রাম পাটাশিমুল গ্রামের বাসিন্দা দীপক আগুয়ান বলেন, বাঁশের কুলো, ঝুড়ি তৈরি করি। আমাদের তৈরি শিল্প দেশের একশোটি বিপণন কেন্দ্র ও বিদেশের মাটিতে ও পাওয়া যাবে। রোজগার বাড়বে, পরিচিতি পাবে আমাদের তৈরি জিনিসপত্র। জাইনাব সাঈদ বলেন, দেশ ও বিদেশে ট্রাইফেডের স্টল রয়েছে। আদিবাসী হস্তশিল্পীদের হাতের তৈরি সামগ্রী কেনার পর ট্রাইফেডের স্টলগুলিতে পাঠানো হবে। চাহিদা বাড়ালেই সরাসরি অর্ডারের মাধ্যমে তৈরি করিয়ে হস্তশিল্পীদের কাছ থেকে কিনে নেওয়া হবে। দেশ ও বিদেশের নানা প্রান্তে প্রদর্শনী হলে সেখানে তাঁদের সামগ্রী তুলে ধরার বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়াও তাঁদের হস্তশিল্পের গুণগতমান বৃদ্ধি করতে দপ্তরের তরফে বিভিন্ন সময় ট্রেনিং দেওয়া হবে। ফলে এই এলাকার আদিবাসী হস্তশিল্পীদের সামগ্রী দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি তাঁরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারবেন। প্যারিসের মতো জায়গায় জঙ্গলমহলের লোকজ শিল্প পৌঁছাবে বলেও তিনি জানান।