Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

জাগ্রত বোল্লাকালী

জাগ্রত বোল্লাকালী
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
কথিত রয়েছে, বাণগড়ের সময় থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের কাছে বোল্লা গ্রামে হয়ে আসছে বোল্লা পুজো। পাল যুগের শেষে দশম ও একাদশ শতাব্দীতে এই পুজো শুরু হয়। প্রায় ৪০০ বছর আগে এই এলাকার জমিদার ছিলেন বল্লভ চৌধুরী। তাঁর নাম অনুসারে নাম হয়েছে বোল্লা। 
Advertisement
বোল্লা এলাকায় কলেরা একসময় মহামারীর আকার নেয়। মারা যান অগুনতি মানুষ। তখন বোল্লা এলাকায় ঢুকতে অনেকেই ভয় পেতেন। গ্রামের লোক অন্য এলাকায় গেলে আতঙ্কে তাঁদের দেখে পালিয়ে যেতেন বাকিরা। মহামারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে এখানকার বাসিন্দারা কালীপুজো শুরু করেন। যা প্রথমে মড়কা কালীপুজো বলে পরিচিত ছিল। এরপর ‘মড়কা’কে বোল্লা রক্ষাকালী বলে পুজো শুরু করেন বাসিন্দারা। গ্রামের হিন্দু-মুসলিমদের মড়ক থেকে রক্ষা করার কারণে এই পুজোয় সকল সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আগে জোড়া পাঁঠা বলি দেওয়া হতো। একটি হিন্দুদের ‘মাদারকালী’, অন্যটি মুসলিমদের ‘সিন্নি’। পরবর্তীতে ‘সিন্নি’ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে লোকমুখে এই বোল্লা রক্ষাকালীই বোল্লাকালী বলে পরিচিত হয়।
বিভিন্ন নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, তৎকালীন জমিদার মুরারিমোহন চৌধুরী একবার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মামলায় জড়িয়ে যান। তিনি বোল্লাকালীর কাছে মানত করে মামলায় জেতার পর সেই বছর থেকে রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবার ঘটা করে পুজোর আয়োজন করেন। উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেলা হয় এই বোল্লায়। মেলা চারদিনের। ভক্তরা মূলত হাঁড়িতে করে বাতাসা, খাজা, সন্দেশ ভোগ দিয়ে থাকেন। মন্দিরের মূল দরজা বন্ধ থাকার কারণে বাইরে থেকে ছুড়ে ভোগ নিবেদন করতে হয় ভক্তদের। বোল্লা মাকে এবছর ২১ কেজি সোনার গয়না দিয়ে সাজানো হয়েছে। দুই কিলো ওজনের রামদা, হীরের টিপ, সোনার জিহ্বাও রয়েছে মায়ের জন্য। ভক্তদের বিশ্বাস, বোল্লাকালীর কাছে মানত করলে মা ফেরান না।
সম্পর্কিত সংবাদ