Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

জগদীশচন্দ্র ও বসু বিজ্ঞান মন্দির

জগদীশচন্দ্র ও বসু বিজ্ঞান মন্দির
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
১৮৯৮ সাল। তখন জগদীশচন্দ্র বসু প্রেসিডেন্সি কলেজের গবেষণাগারে কাজ করতেন। সেই সময় লর্ড র‌্যালে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য ইংল্যান্ড থেকে সিংহল গিয়েছিলেন। ফেরার পথে লর্ড রিপনের ডাকে কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় আসেন। সেই সময় বিনা আমন্ত্রণেই তিনি প্রেসিডেন্সিতে জগদীশচন্দ্রের ল্যাবরেটরি দেখতে চলে আসেন। গবেষণাগার দেখে মুগ্ধ হন র‌্যালে। তবে এই ঘটনায় একেবারেই সন্তুষ্ট হননি অধ্যক্ষ। কেন বিনা অনুমতিতে র‌্যালের মতো একজন বিজ্ঞানীকে গবেষণাগার দেখতে আনা হল, তা নিয়ে জগদীশচন্দ্রের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন তিনি। এই ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেন জগদীশচন্দ্র। এরপর থেকে কর্তৃপক্ষ তাঁর কাজে নানারকম বাধার সৃষ্টি করতে থাকে। তখনই একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরির সিদ্ধান্ত নেন জগদীশচন্দ্র। কিন্তু গবেষণাগার তৈরি করতে দরকার প্রচুর অর্থের। সে সময় তাঁর পাশে দাঁড়ান ভগিনী নিবেদিতা। জগদীশচন্দ্রের গবেষণায় সাফল্যের কথা শুনেছিলেন নিবেদিতা। ভারতে আসার পর তাঁর সঙ্গে নিবেদিতার আলাপ হয়। সেই সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে নিবেদিতা তাঁকে আদর করে ‘ব্রায়ান’ বলে ডাকতেন। স্কটিশ শব্দ ব্রায়ানের বাংলা তর্জমা হল ‘খোকা’। বোঝা যায়, তাঁকে পুত্রের মতো স্নেহ করতেন নিবেদিতা। ১৮৯৯ সালে তাঁর সুবাদেই ইউরোপীয় মহিলা মিসেস বুলের সঙ্গে পরিচয় হয় জগদীশচন্দ্রের। ১৯০০ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন জগদীশচন্দ্র। সেই সময় মিসেস বুল তাঁকে সুস্থ করে তোলেন। জগদীশচন্দ্র তাঁকে মায়ের মতো দেখতেন। মিসেস বুলও তাঁকে স্নেহ করতেন। সে কারণে মৃত্যুর আগে তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকার জগদীশচন্দ্রকে উইল করে দিয়ে যান। পত্নী অবলা বসু নিজের জমানো প্রায় চার লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন জগদীশচন্দ্রকে। অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি মুন্সিগঞ্জে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিও বিক্রি করে দেন। পাশে দাঁড়ান বন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। ১৯১৭ সালে ৩০ নভেম্বর ৬০তম জন্মদিনে বসু বিজ্ঞান মন্দিরের দ্বারোদঘাটন করেন জগদীশচন্দ্র।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ