


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘জেড্ডা বিমানবন্দরে এসে দেখি, সারি সারি বিমান দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুরো শুনশান। যেন কোভিড পরিস্থিতি!’ মক্কা-মদিনায় তীর্থ করতে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে সেই অভিজ্ঞতাই শুনিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম।
আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছিল রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পরিবারের। রমজান মাসে প্রথমবার ‘উমরাও’ হজ করতে গিয়ে মক্কা-মদিনায় আটকে পড়েন ফিরহাদের স্ত্রী রুবি হাকিম, কন্যা প্রিয়দর্শিনী ও তাঁর ছোট্ট মেয়ে। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে কলকাতায় ফিরেছেন তাঁরা। আতঙ্ক-দুশ্চিন্তার ইতি, স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে হাকিম পরিবার।
প্রিয়দর্শিনী বলেন, আমি এনিয়ে খুব একটা চিন্তায় ছিলাম না। কিন্তু বাবা খুব চিন্তায় ছিলেন। বাড়িতে দুই বোন, বাবা রয়েছেন। বাবা আমাদের সবসময় আগলে রাখেন। তিনি ঘন ঘন ফোন করছেন। আরো দুদিন থাকার কথা ছিল। কিন্তু, আমরা খবর পেলাম, জেড্ডা থেকে মুম্বই একটা ফ্লাইট যাচ্ছে। আমরা ওই ফ্লাইটই ধরি। প্রিয়দর্শিনীর সংযোজন, আমার মায়ের মানসিক শক্তি খুবই বেশি। কিন্তু, বাবা এত চিন্তা করছিলেন। আমি বাবাকে শান্ত থাকতে বলি। ফ্লাইটে ওঠার সময়ও বাবা ফোনে ছিলেন। বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন, বিমানের দরজা বন্ধ হয়েছে কি না, যদি আবার সবাইকে নামিয়ে দেয়। আমি বাবাকে শান্ত থাকতে বলি। বাবা রাত ২-৩টে পর্যন্ত অ্যাপে দেখেছেন, বিমানটা কোন রুট দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর দোলের দিনটি চেতলা ক্লাব চত্বরে যেন মেলা নামে। ধর্ম-বর্ণের ভেদরেখা মুছে আট থেকে আশি—সবাই হাজির হন পাড়ার মাঠে। এবার এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই দোল ফিকে হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু, পরিবার ফিরে আসায় স্বস্তিতে মেয়র। তবে এবছর রমজান চলায় তিনি সরাসরি মাঠে নামেননি। বহুতলের ছাদ থেকেই সবাইকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। উপভোগ করেছেন আনন্দের মুহূর্ত ।রঙের উৎসবে যোগ দেয় ফিরহাদের নাতনি তথা প্রিয়দর্শিনীর মেয়ে। তাকে দেখা যায় সমবয়সিদের সঙ্গে রঙের চৌবাচ্চায় ঝাঁপিয়ে পড়তে। কলকাতায় ফিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি পোস্ট করেছেন ফিরহাদ হাকিম কন্যা প্রিয়দর্শনী ।